
X
পর্তুগাল কোচ রবের্তো মার্তিনেস।
পর্তুগালকে পেনাল্টি দেওয়া কিংবা ক্রোয়েশিয়ার গোল বাতিল করা; কোনোটাতেই রেফারিংয়ের ভুল দেখছেন না রবের্তো মার্তিনেস। উত্তেজনায় ঠাসা লড়াইয়ে বড় সিদ্ধান্তগুলো ‘সঠিকভাবে’ নেওয়ায় রেফারির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পর্তুগালের কোচ।
বিশ্বকাপে শুক্রবার সকালে শেষ হওয়া মহানাটকীয় শেষ বত্রিশের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারায় পর্তুগাল। ইভান পেরিসিচ ক্রোয়াটদের এগিয়ে নেওয়ার পর সফল স্পট কিকে পর্তুগিজদের সমতায় ফেরান মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যোগ করা সময়ে ব্যবধান গড়ে দেন গসালো রামোস।
রামোসের গোলের কিছুক্ষণ পরই পর্তুগালের জালে বল পাঠান ইয়োশকো ভার্দিওল। কিন্তু অনেকটা সময় ভিএআর পর্যালোচনার পর মনিটরে দেখে গোল বাতিল করে দেন রেফারি। তার মতে, অফসাইডে ছিলেন ভার্দিওলকে পাস দেয়া মারিও পাশালিচ।
রেফারির এই সিদ্ধান্ত যেন বিশ্বাসই করতে পারছিল না ক্রোয়াটরা। তাদের সমর্থকরা মাঠে বোতল ছুড়তে থাকে গ্যালারি থেকে। সবমিলিয়ে ১০ মিনিট যোগ করা সময় শেষ হয় ১৯ মিনিটে গিয়ে! ভিএআর পর্যালোচনা করে, মনিটর দেখেই ৬৮তম মিনিটে পর্তুগালকে পেনাল্টি দেন রেফারি। কর্নার কিকের পর বক্সে পর্তুগালের খেনাতো ভাইগাকে টেনে ফেলে দেন ক্রোয়েশিয়ার নিকোলা ভ্লাসিচ।
এদিন অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছে মোট চারটি ‘গোল।’ এর একটি পর্তুগালের, বাকি তিনটি ক্রোয়েশিয়ার। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিততে পারায় ভীষণ খুশি মার্তিনেস। তার মতে, যোগ্য দল হিসেবেই শেষ ষোলোয় যাচ্ছে তারা। একই সঙ্গে রেফারিংয়ের প্রশংসাও করেন তিনি।
“কোনো বাজে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আজকে আমরা সৌভাগ্যবান ছিলাম। চিপ বল প্রযুক্তি দেখিয়েছে সেটা অফসাইড ছিল, পেনাল্টির সিদ্ধান্তও পরিষ্কার ছিল। এই দল নিয়ে দালিচের পরিশ্রমকে আমি সম্মান করি, তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আজকে এক দলই জয়ী হতে পারত।”
এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে কীভাবে স্নায়ুচাপ সামলান মার্তিনেস? উত্তরে বললেন, নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিখে গেছেন তিনি।
তবে ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে যে তার ওপর দিয়ে বেশ ধকল গেছে, তা রসিকতার ছলে স্বীকার করে নেন মার্তিনেস। “এই চাপের কারণে আমার চুল পড়ে গেছে, তবে আমার মনে হয়, এটা সার্থক (ম্যাচ জেতায়)।”
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আগামী সোমবার মুখোমুখি হবে স্পেন-পর্তুগাল।