
X
ছবি: প্রতিনিধি
দেশের বিদ্যমান প্রেক্ষাপট নিয়ে বগুড়া শহরের নবাববাড়ি রোডের টিএমএসএস মহিলা মার্কেট মিলনায়তনে জেলা উলামা মাশায়েখ পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘উলামা সমাবেশ ২০২৬’।
শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে উলামায়ে কেরামের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ও ত্যাগের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব ড. খলিলুর রহমান মাদানী।
তিনি তার বক্তব্যে ইসলামের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে আলেমদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে। হক ও সত্যের পথে অবিচল থেকে দেশের প্রয়োজনে, ইসলামের প্রয়োজনে আলেমদের ত্যাগ স্বীকার করার ইতিহাস দীর্ঘ। আলেমদের যে চারিত্রিক শক্তি ও ঐক্যের শক্তি রয়েছে, তা ইসলামের বিরোধীদের নেই। আজ আমরা দেশ ও দশের জন্য যে দায়িত্ব পালন করছি, তা কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে হবে।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, আলেমদের পিছনে সবাই কাজ করলেও, সবার আগে হুঙ্কার দিয়েছিল উলামায়ে কেরাম।
আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে আলেমদের ওপর চালানো নির্যাতনের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের বাহিনী এমন বাহিনী যাদের চারিত্রিক শক্তি ও ঐক্যের শক্তি অদম্য। একজনকে নিতে গেলে আমরা সবাই যাব এই ঐক্যই আমাদের বড় শক্তি।” প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদের খতিব ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা আলী হাসান উসামা।
তিনি বলেন, “মউতের ফয়সালা আসমানে হয়, জমিনে নয়। আইয়ুব খানের আমলে আলেমদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, মাওলানা মওদুদীর (রহ.) ফাঁসির আদেশের সময়ও তিনি অবিচল ছিলেন। তিনি বলতেন, ‘মউতের ফয়সালা আকাশে হয়, জমিনে নয়’। আজ আমাদের সেই বলিষ্ঠ ঈমানের প্রয়োজন রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যে যে মাজহাবে আছি অসুবিধা নেই, কিন্তু ইসলামের পক্ষে আমরা সবাই এক। অতীতের মতো বর্তমানেও আমাদের বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে নারী নীতি, শিক্ষানীতি ও ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আলেমদের মাঠে নামার ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “আলেম ওলামারা ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো কাজ হতে দেবে না এই সংকল্প নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিবৃন্দ বর্তমান সময়ে উলামায়ে কেরামের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন, “দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে উলামায়ে কেরামকে কেবল ধর্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক সকল ন্যায়ের পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে হবে।”
বিশেষ অতিথির অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন বলেন, আল্লাহর দুনিয়াতে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে আলেমদের ভূমিকায় মুখ্য। তাই দিন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি আলেমদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল তার বক্তব্যে বলেন, “ইসলামের আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হলে আলেম ও সাধারণ জনতাকে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে কোনো অপশক্তিই ইসলামের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করার সাহস না পায়।”
এছাড়া বগুড়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওঃ আব্দুল হক সরকার বলেন, “বগুড়ার মাটি সবসময় হক ও সত্যের পক্ষে আপসহীন। উলামায়ে কেরামের এই সমাবেশ থেকে যে ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। অতীতে যেমন আলেমগণ জেল-জুলুম সহ্য করে ইসলামের পাশে দাঁড়িয়েছেন, ভবিষ্যতেও আমরা সেই পথেই অবিচল থাকব।”
উলামা মাশায়েখ পরিষদ, বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মমতাজ উদ্দিন-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওঃ মোঃ আব্দুল বাছেত-এর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সকল ভেদাভেদ ভুলে ইসলামের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।