প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৫ পিএম আপডেট: ০৪.০৭.২০২৬ ৬:৪৮ পিএম (ভিজিট : ১০৭)

X
ছবি: প্রতিনিধি
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল না থাকায় প্রতিদিন শত শত রোগী কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জনবল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ছে এক্স-রেসহ হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানে চিকিৎসকের ২৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। অর্থাৎ চিকিৎসক পদের ৮২ দশমিক ৬১ শতাংশই শূন্য। এছাড়া ৩২ জন নার্সের স্থলে কর্মরত আছেন ২৬ জন। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত ২ জন (শূন্যতা ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ)। ফিল্ড স্টাফ ৪০ জনের মধ্যে আছেন ২৭ জন এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৩৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪ জন।
এদিকে হোমিও প্যাথি বিভাগে ডা. রাজিব ঘোষ যোগদান করলেও শুরু থেকেই তিনি প্রেষণে পার্শ্ববর্তী বোরহানউদ্দিন উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। ফলে বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে রোগীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অল্পসংখ্যক চিকিৎসাকর্মীকে।
জানা গেছে, হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ থাকলেও কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভোলা সদরসহ অন্য হাসপাতালে রেফার করতে হয়। এছাড়া হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারটি (ওটি) জনবল সংকটে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে ওটির গুরুত্বপূর্ণ ও দামি যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ছে।
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা একাধিক রোগী অভিযোগ করেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অধিকাংশ সময় বাইরে যেতে হয়, যা অসহায় ও গরিব রোগীদের জন্য আর্থিকভাবে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. দিব্যেন্দু রায় রাজিব বলেন, 'চিকিৎসক সংকটের কারণে একজন চিকিৎসককে ইনডোর ও আউটডোরে সব ধরনের রোগী দেখতে হয়। আমরা সাধ্যমতো রোগীদের সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে জুনিয়র কনসালটেন্ট না থাকায় জটিল রোগীদের চিকিৎসা এখানে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে, আশা করছি দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে।'
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেই অনুপাতে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে সেবার মান বাড়াতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।