
X
নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে ঘিরে অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ নতুন মোড় নিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অভিযোগের একদিনের মাথায় চেম্বারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাসুদ রানাকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।
শনিবার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোছা. আছিয়া খাতুন স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর আগে শুক্রবার বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৫ জুলাই ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন সেলিম-এরশাদ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মো. সেলিম রেজা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। নির্বাচন পরিচালনার জন্য গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি শুরু থেকেই পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের আচরণবিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্যানেল নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সংবাদপত্রে প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে এবং নিয়মিত ভোটারদের নিয়ে ভোজসভার আয়োজন করেছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ করা হয় ভোটার পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) বিতরণ নিয়ে। সেলিম রেজার দাবি, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ভোটারদের নিজ নিজ উপস্থিতিতে পরিচয়পত্র সংগ্রহের নির্দেশনা থাকলেও একটি প্যানেলের প্রতিনিধিদের দুইজনের স্বাক্ষরে প্রায় ৬০০ ভোটার আইডি কার্ড উত্তোলন করা হয়েছে। পরে ওই প্যানেলের পক্ষ থেকে মোবাইল বার্তার মাধ্যমে ভোটারদের তাদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র সংগ্রহের জন্য বলা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নজরে আনা হলে প্রথমে তা অস্বীকার করা হয়। পরে রেজিস্টার যাচাই করে দেখা যায়, সভাপতি পদপ্রার্থী আতিকুর রহমান বাদলের প্রতিষ্ঠানের একজন ম্যানেজার এবং একই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর স্বাক্ষরে এসব পরিচয়পত্র উত্তোলন করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেম্বারের অফিস সেক্রেটারি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম রেজা বলেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এবং অফিস স্টাফদের আচরণে মনে হচ্ছে তারা একটি বিশেষ প্যানেলকে বিজয়ী করার লক্ষ্যেই কাজ করছেন। এ অবস্থায় বর্তমান নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই আমরা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বাতিল করে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের জোর দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগের পরদিন শনিবার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মোছা. আছিয়া খাতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন এবং নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, একটি নির্দিষ্ট প্যানেলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে সহ-সভাপতি প্রার্থী এরশাদুল বারী এরশাদ, মামুনুর রশিদ এবং পরিচালক প্রার্থী মাহফুজুল হক, আব্দুল বাসেদ, রনি, মহররম আলী ও জর্জিস হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ৫ জুলাই অনুষ্ঠেয় বগুড়া চেম্বারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনাকে ব্যবসায়ী মহলে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এবং অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সংবাদে প্রকাশ করা হবে।