প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম (ভিজিট : ৩২)

X
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর মিসর দলের উল্লাস।
ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২’র ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে মিসর। শেষ ষোলো নিশ্চিতের এই জয়টি ফিলিস্তিনের জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন কোচ হোসাম হাসান।
শুক্রবার রাতে ডালাস স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হয়। এরপর পেনাল্টি শুটআউটে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারায় মিশর। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল তারা।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হোসাম হাসান বলেন, ‘আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং তাদের শহীদদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাদের বলতে চাই- এই ঐতিহাসিক জয়টি মিসরের মানুষের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের সেই সম্মানিত জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছি।’
ম্যাচ জেতার পর হোসাম হাসান মাঠের ভেতরে মিসর ও ফিলিস্তিন—উভয় দেশের পতাকা হাতে নিয়ে আসেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের প্রথম জয়ের পর পুরো মিশরীয় দল মাঠেই একসাথে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে।
মিসরের এই জয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক ফিলিস্তিনি ফুটবলপ্রেমী তাদের বাঁধভাঙা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। গাজার বাসিন্দা তামের নাভেদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘জীবনে এই প্রথমবার বিশ্বকাপ নিয়ে আমি এতোটা উত্তেজিত। একটু আগে মিসরের জয় দেখে খুব ভালো লেগেছে, তবে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য ছিল এখানকার—হাজার হাজার মানুষ তাদের তাবু এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে ম্যাচটি দেখছিলেন।’
তিনি আরও লেখেন, ‘চারপাশের এতো কষ্টের মাঝেও সবার মুখে হাসি ফুটেছিল, চারদিক উল্লাসে মুখরিত হয়ে উঠেছিল। মনে হচ্ছিল, চারপাশের নির্মম বাস্তবতাকে ভুলে প্রত্যেকে নিজেদের একটুখানি বাঁচার আনন্দ উপহার দিতে চেয়েছিল।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গাজা উপত্যকার কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, বোমায় বিধ্বস্ত ভবন এবং অস্থায়ী তাঁবুর পটভূমিতে প্রজেক্টরে খেলা দেখছেন যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষ। অনেকের মুখে ছিল চওড়া হাসি, আর শিশুদের গালে আঁকা ছিল মিশরের পতাকা।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশরের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। শনিবার ভোরে কেপভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচটি শুরু হবে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০ টায়।
ক্যাপশন :