
X
সংগৃহীত ছবি
মরক্কো-কানাডা ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর শেষ ষোলোর লড়াই। একদিকে ‘অ্যাটলাস লায়ন’ মরক্কোর লক্ষ্য আগের আসরের সফলতাকে ছাড়িয়ে যাওয়া অন্যদিকে উত্তর আমেরিকার প্রতিনিধি কানাডা চাইছে তাদের রেকর্ড ভাঙাগড়ার রূপকথাকে আরও দীর্ঘ করতে।
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি কানাডার জন্য কেবল ইতিহাস গড়ারই নয়, বরং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মরক্কোর কাছে হারের মধুর প্রতিশোধ নেওয়ারও এক মোক্ষম সুযোগ।
শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের টিকিট কাটে কানাডা। অন্যদিকে সব হিসাব-নিকাশ ও প্রত্যাশাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টাইব্রেকারে পরাশক্তি নেদারল্যান্ডসকে স্তব্ধ করে দিয়ে এই আসরে নিজেদের অপ্রতিরোধ্য যাত্রার জানান দেয় মরক্কো।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কানাডার সেই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ছিলেন মিডফিল্ডার স্টিফেন ইউস্তাকিও। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে এই এফসি পোর্তো তারকার দুর্দান্ত গোলই কানাডাকে নিয়ে যায় এক অজানা আনন্দের ঠিকানায়। নিজের চেনা মাঠ ও চেনা দর্শকদের সামনে প্রথমাংশ থেকেই দুর্দান্ত খেলছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগ ভেদ করে কাঙ্ক্ষিত সেই জয়সূচক গোলটি আসে তাঁর পা থেকেই।
অন্যদিকে চার বছর আগে সেমিফাইনালে খেলা মরক্কো এবারও প্রমাণ করছে, বিশ্বকাপে বহুদূর যাওয়ার সামর্থ্য তাদের আছে। নতুন প্রধান কোচ মোহামেদ ওয়াহবির অধীনে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের ১২০ মিনিট ১-১ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে স্তব্ধ করে দেয় ‘অ্যাটলাস লায়ন’রা। পেনাল্টি শুটআউটে দুই দলের ফিনিশিংয়ে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও, স্নায়ুচাপ ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত ঠিকই বাজিমাত করে মরক্কো।ক্রীড়া সামগ্রী
মরক্কো-কানাডা ম্যাচের জয়ী দল মুখোমুখি হবে ফ্রান্স অথবা প্যারাগুয়ের। তবে শেষ আটে যাওয়ার আগে কানাডার সামনে দাঁড়িয়ে এক কঠিন ইতিহাস; মরক্কোর বিপক্ষে এর আগের চারবারের দেখায় কখনই জয়ের মুখ দেখেনি তারা, যার মধ্যে আছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ২-১ গোলের সেই হারও।
গত মার্চে দায়িত্ব নেওয়া ওয়াহবি মরক্কোর চেনা ফুটবল কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছেন। ২০২২ সালের সেই কাউন্টার-অ্যাটাকিং (প্রতি-আক্রমণ নির্ভর) ফুটবল থেকে দলকে বের করে এনে তিনি খেলোচ্ছেন বল দখলে রাখার আধুনিক ‘৪-২-৩-১’ ফরমেশনে।
টানা ৯ ম্যাচ ধরে অপরাজিত থাকা মরক্কোকে আজ আরও বড় অনুপ্রেরণা যোগাবে ফ্রান্সের সঙ্গে সম্ভাব্য সেই পুনর্মিলনীর রোমাঞ্চ, চার বছর আগে যাদের কাছে হেরেই সেমিফাইনালে ভেঙেছিল মরক্কোর স্বপ্ন।
কানাডা শিবিরের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হচ্ছে তাদের পোস্টার বয় আলফনসো ডেভিসের ফিটনেস। বায়ার্ন মিউনিখের এই সুপারস্টার ২০২৫ সালের মার্চের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন। কোচ জেসি মার্শ আজ তাঁকে শুরুর একাদশে রাখার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে না দিলেও, লেফট-ব্যাক পজিশনে দারুণ ফর্মে থাকা রিচি লারিয়া আজকেও প্রথম একাদশে জায়গা ধরে রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে দলে অনুপস্থিত ইসমাইল কোনে ছাড়া কানাডা শিবিরের বাকি সবাই ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট। তবে প্রথম একাদশ সাজাতে গিয়ে বেশ মধুর কিছু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কোচ জেসি মার্শকে। বিশেষ করে মাঠের বাঁ প্রান্তে (লেফট উইং) জ্যাকব শ্যাফেলবার্গ ও লিয়াম মিলারের মধ্যে কাকে খেলানো হবে, তা নিয়ে চলছে মধুর জটিলতা। পাশাপাশি আক্রমণভাগে দলের প্রধান তারকা জোনাথন ডেভিডের যোগ্য সঙ্গী হিসেবে কাইল লারিন, তানি ওলুয়াসেয়ি এবং প্রমিজ ডেভিডের মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে বেছে নেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হবে মার্শকে।ক্রীড়া সামগ্রী
অন্যদিকে বড় এক স্বস্তির খবর এসেছে মরক্কো শিবিরে। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার শাদি রিয়াদ চোট কাটিয়ে আবারও দলের সঙ্গে পুরোদমে অনুশীলনে ফিরেছেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে চোটে পড়ে ক্রিস্টাল প্যালেসের এই ডিফেন্ডার মাঠ ছাড়লেও, আজ শুরু থেকেই তাঁর খেলার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য তিনি যদি শতভাগ ফিট না থাকেন, তবে তাঁর বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে রেদুয়ান হালহাল ও মারওয়ান সাদানিকে।
সব মিলিয়ে কোচ ওয়াহবি আজ নিজের সেরা স্কোয়াডটিই পাচ্ছেন, যেখানে স্পটলাইটে থাকবেন বায়ার্ন মিউনিখের নতুন রিক্রুট ইসমায়েল সাইবারি। শেষ ৩২-এর ম্যাচে জয়ের ঠিক পরপরই ২৫ বছর বয়সী এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের বায়ার্নে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। আজকের ম্যাচেও নিজের চেনা ছন্দে থেকে টুর্নামেন্টে গোলের সংখ্যাটা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার মূল লক্ষ্য থাকবে এই মরক্কোন তারকার।
নকআউটের এই মঞ্চে যে সামান্যতম ভুলেরও কোনো সুযোগ নেই, তা অকপটে স্বীকার করেছেন মরক্কো কোচ ওয়াহবি। ম্যাচের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি এভাবে, ‘আমরা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে খেলছি। এখানে সেরাটা দিতে না পারলে প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, বিদায় নিশ্চিত। ফুটবলাররা এটা খুব ভালো করেই জানে। আর তাই এই ম্যাচটিকে আমি আমার কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে দেখছি।’