প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৫ পিএম (ভিজিট : ২৯)

X
সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক নতুন ও বড় ধরণের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে তুরস্ক ও ইসরায়েল।
বছরের পর বছর ধরে চলা দুই দেশের হুমকি ও পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে আরও তীব্র ও তিক্ত হয়ে ওঠে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। পরিস্থিতি এখন এতটাই জটিল যে, এখন ইসরায়েলি রাজনীতিকরা ইরানের সঙ্গে একই সমান্তরালে তুরস্কের নাম নিচ্ছেন। খোদ ইসরায়েলের এক মন্ত্রী দাবি করেছেন যে, সিরিয়ার পাশাপাশি তুরস্কই এখন ইরানের জায়গা নিয়ে তাদের দেশের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসরায়েল গত ২৮ জুন অটোমানদের দ্বারা ১৯১৫ সালে সংঘটিত আর্মেনীয় গণহত্যাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে এই উত্তেজনাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে (তুরস্ক অবশ্য এই মৃত্যুকে যুদ্ধাপরাধ বা গণহত্যা কোনোটিই মনে করে না)। অন্যদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানও গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছেন। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন যে, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ তুরস্কের জন্য বড় হুমকি। এমনকি গত জুনের শুরুতে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, জেরুজালেম তুর্কি নিয়ন্ত্রণে এলে তিনি সেখানকার গভর্নর হতে চান। উল্লেখ্য, ১৯১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ চার শতাব্দী ধরে অটোমান সাম্রাজ্য জেরুজালেম ও ফিলিস্তিন শাসন করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বাগযুদ্ধের বড় অংশই মূলত নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ দর্শকদের মন জয়ের চেষ্টা (পোস্টারিং)। আগামী অক্টোবরে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভোটারদের কাছে নিজেকে একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে প্রমাণ করতে চান, যিনি অবরুদ্ধ ইসরায়েলকে রক্ষা করতে পারেন। অন্যদিকে, ২০২৮ সালের নির্ধারিত নির্বাচন এগিয়ে আনার কথা ভাবতে থাকা এরদোয়ানেরও দেশের ৩০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হার থেকে জনগণের নজর ঘুরিয়ে রাখতে একটি ‘বোগিম্যান’ বা জুজু দরকার।
তবে এই প্রচারণার আড়ালে দুই দেশের মধ্যেই একে অন্যকে নিয়ে গভীর ভয় কাজ করছে। ইসরায়েল মূলত সিরিয়ায় তুরস্কের বিশাল সামরিক উপস্থিতি এবং মিশর, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে আঙ্কারার গড়ে ওঠা সামরিক জোটকে সন্দেহের চোখে দেখছে।
অন্যদিকে, তুরস্কের ভয় গাজা, ইরান ও লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধ ও কুর্দি বিদ্রোহীদের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের থিংক-ট্যাঙ্ক ‘ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন’-এর আসলি আয়দিনতাসবাস বলেন, তুর্কি নীতিনির্ধারকরা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি ফাইলে বা বিষয়েই ইসরায়েলকে একটি বড় বাধা বলে মনে করেন। আপাতত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি কম হলেও, একে আর একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।