একাই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দেন গোলমেশিন হালান্ড
এবারও পারল না পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন দল ব্রাজিল, স্বপ্নের সেই হেক্সার জন্য সেলেসাওদের অপেক্ষা বাড়ল আরও চার বছরের জন্য। রাউন্ড অফ সিক্সটিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে। ম্যাচের শেষ মুহুর্তে পেনাল্টি থেকে এক গোল শোধ করেন নেইমার। তবে তাতে হার এড়াতে পারেনি সেলেসাওরা।
প্রথমার্ধ গোলশূন্যতে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় ব্রাজিল। কিন্তু গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও লিড নিতে পারেনি সেলেসাও। এদিকে ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে ব্রাজিলের জালে এক গোল দিয়ে বসেন আর্লিং হালান্ড।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় ব্রাজিল-নরওয়ে। ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। ম্যাচের শুরুতেই ব্রাজিলের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল ইউরোপের দলটি।
অপ্রতিরোধ্য হালান্ড
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ব্রাজিলের জালে বলও পাঠিয়ে দিয়েছিল নরওয়ে। সঙ্গে সঙ্গে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো স্টেডিয়াম। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফালি। তাতেই যেন প্রাণ ফিরে পায় ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা। আলিসনকে ফাঁকি দিয়ে অফসাইডে দেওয়া গোলটি ছিল প্যাটট্রিক বার্গের।
ম্যাচের দশম মিনিটে লিড নিতে পারতো নরওয়ে। ডি-বক্সের ভেতরে ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল করেন নরওয়ের এক ডিফেন্ডার। ভিএআরের মাধ্যমে ফাউল ঘোষণা করে পেনাল্টি দেন রেফারি। পেনাল্টি কিক নিতে আসেন ব্রুনো গুইমারেস। তার নেওয়া শটটি বীরত্ব দেখিয়ে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ড।
পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাথিউস কুনহা এবং মার্তিনেল্লি দূরপাল্লার শটে গোল করার চেষ্টা করলেও নরওয়ের ডিফেন্ডাররা তা প্রতিহত করেন। ফলে আক্রমণের পর আক্রমণ করেও গোলহীনভাবেই বিরতিতে যেতে হয় লাতিন আমেরিকার দলটিকে।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে ভিনিসিয়ুস এক দুর্দান্ত পাস দেন এন্দ্রিককে, বল নিয়ে নরওয়ের বক্সের ভেতরে ঢুকে যান তিনি। সামনে ছিলেন কেবল গোলরক্ষক। টোকা দিয়ে বল জালে জড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বলটি চলে যায় গোলবার পাশ দিয়ে।
ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে হালান্ডের দ্বিতীয় গোল
এরপর বাম দিক থেকে সুশৃঙ্খলভাবে ক্রস বাড়ান শেল্ডারআপ। সেই ক্রসে ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়েসকে ছাপিয়ে দারুণ উচ্চতায় উঠে শক্তিশালী হেড নেন হলান্ড। ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের কোনো সুযোগ না রেখে বল জালে পাঠান নরওয়ের এই গোলমেশিন।
দৃষ্টিনন্দন এই গোলটি ছিল টুর্নামেন্টে হলান্ডের ষষ্ঠ গোল, যা তাকে আরও একবার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের দৌড়ে এগিয়ে দিল।