প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩২ এএম (ভিজিট : ৬৩)

X
নেইমারের বিদায় ব্রাজিলের ফুটবলে এক যুগের সমাপ্তি ঘটাল
নরওয়ের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পর আবেগাপ্লুত নেইমার ঘোষণা দিয়েছেন, ব্রাজিলের হয়ে তার ক্যারিয়ার “শেষ”।
বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাতে ২-১ ব্যবধানে হারে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের সান্ত্বনার গোলটি করেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
আর্লি হালান্ডের জোড়া গোল ব্রাজিলকে ১৯৯০ সালের পর সবচেয়ে আগেভাগে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য করে।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশির পর নেইমার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। সতীর্থরা তাকে সান্ত্বনা দেন। গ্লোবো-কে তিনি বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি, চেষ্টা করেছি। এখন শেষ। আমি এখানে শুরু করেছি; এখানেই শেষ করলাম।”
.
নেইমার ২০১০ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অভিষেক ম্যাচে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেছিলেন। একই মাঠেই তার বিদায়।
পেলেকে তিন গোল পিছনে ফেলে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে বিদায় নিচ্ছেন নেইমার—৮০ গোল।
এদিন গোল করে পেলের আরেকটি রেকর্ড ছঁয়েছেন তিনি— চারটি বিশ্বকাপে গোল করা দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে। তার খেলা ১৩০ ম্যাচ ব্রাজিলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, সর্বোচ্চ কফুর ১৪২ ম্যাচ।
ডান পায়ের পেশির চোটের কারণে নেইমার এই টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন—গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ মিনিট এবং নরওয়ের বিপক্ষে বদলি হিসেবে ৬৭তম মিনিটে মাঠে নামেন।
গত এক দশকের সেরা খেলোয়াড় হলেও চোট তার প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে। এখন ব্রাজিল নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দিচ্ছে।
কোচ কার্লো আনচেলত্তি ম্যাচ শেষে বলেন,“এটি খুব হতাশাজনক ফল। আমরা সবাই দুঃখিত। তবে এই দলটি দুর্দান্ত ছিল, খেলোয়াড়রা কঠোর পরিশ্রম করেছে। আমরা হারের যোগ্য ছিলাম না, কিন্তু মেনে নিতে হবে। এটাই ফুটবল। কখনো কখনো দুঃখকে সামলাতে হয়। আমরা এই পরাজয়কে নতুন চক্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করব।”
নেইমারের বিদায় ব্রাজিলের ফুটবলে এক যুগের সমাপ্তি ঘটাল।