মিশরের কোচ কেন ‘ক্রস’ চিহ্ন দেখাচ্ছিলেন

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলাধুলা

ম্যাচের তখন শেষ সময়। মাঠের ভেতরের তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ডাগআউটেও। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তখন ক্ষোভ জানাচ্ছিলেন মিশরের

2026-07-08T21:40:32+00:00
2026-07-08T21:40:32+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
মিশরের কোচ কেন ‘ক্রস’ চিহ্ন দেখাচ্ছিলেন
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪০ পিএম   (ভিজিট : ৪৪)
মিশরের কোচ কেন ‘ক্রস’ চিহ্ন দেখাচ্ছিলেন
X

মিশরের কোচ কেন ‘ক্রস’ চিহ্ন দেখাচ্ছিলেন

ম্যাচের তখন শেষ সময়। মাঠের ভেতরের তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ডাগআউটেও। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তখন ক্ষোভ জানাচ্ছিলেন মিশরের ফুটবলার থেকে শুরু করে কোচ ও সাপোর্ট স্টাফের অনেকেই। এসবের মধ্যেই কোচ হোসাম হাসানকে দেখা যায় দুই হাত আড়াআড়ি উঁচিয়ে ধরে এক ধরনের সঙ্কেত দিতে। অনেকেরই নজর কাড়ে তা।

বিশ্বকাপের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের ম্যাচটিতে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার আর্জেন্টিনা তখন ৩-২ গোলে এগিয়ে গেছে। বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন হাসান ও তার কোচিং স্টাফের সদস্যরা। এক পর্যায়ে রেফারির মুখোমুখি হয়েও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করতে দেখা যায়।

এসবের মধ্যেই টাচলাইনের পাশে দাঁড়িয়ে দুই হাত আড়াআড়ি উঁচিয়ে ধরে ‘ঢ’ অক্ষরের মতো চিহ্ন দেখান হাসান। বেশ কিছুক্ষণ ধরে ডাগআউটের সামনে ঘুরে ঘুরে সহকারী রেফারিরদের সামনে গিয়ে সেই সঙ্কেত দেখাতে থাকেন তিনি। মাঠের ফেরারির দিকেও দেখান। সহকারী রেফারিরা তখন মাঠের রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। রেফারি ফঁসোয়া লুতেকসিয়ে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখান মিশরের কোচকে।

তার পরও সেই চিহ্ন দেখাতেই থাকেন হাসান। কোচিং স্টাফের সদস্যরা তাকে সরিয়ে নেন। শেষের উত্তেজনার সময়টায় মিশরের কোচিং স্টাফের এক সদস্যকে লাল কার্ডও দেখান রেফারি।

হাসান ওই সঙ্কেত দিচ্ছিলেন ফিফার একটি নিয়মকে তুলে ধরতেই। ফিফার বৈষম্যবিরোধী প্রোটোকল অনুযায়ী, ম্যাচের সময় বর্ণবাদী আচরণ বা বৈষম্যের শিকার হলে খেলোয়াড়, কোচ এবং কর্মকর্তারা উভয় বাহু আড়াআড়ি করে ‘ঢ’ চিহ্ন তৈরি করে অভিযোগ জানাতে পারেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সঙ্কেত এটি।

রেফারি যদি সেই সঙ্কেতকে আমলে নেন, তাহলে ফিফার তিন-ধাপের বর্ণবাদ-বিরোধী প্রক্রিয়া সক্রিয় করা যেতে পারে।
প্রথমত, রেফারি তখন ম্যাচ থামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। এরপর, খেলা পুনরায় শুরু হলে যদি এরকম আরও কোনো ঘটনা ঘটে, তবে রেফারি ম্যাচটি স্থগিত করতে পারেন এবং উভয় দলকে ড্রেসিংরুমে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। এরপর স্থগিতাদেশের কারণ ব্যাখ্যা করে একটি ঘোষণা দেওয়া হয়ে থাকে। শেষ ধাপে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করার পর রেফারি ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এখানে হাসানের সঙ্কেতকে পাত্তা দেননি রেফারি। হাসান অবশ্য ম্যাচ শেষে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে। আমি এই ফলাফলে সন্তুষ্ট নই। এই ম্যাচে যেভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট নই। এখানে সুন্দর শব্দ ব্যবহার করে, বেছে বেছে কথা বলে, বা ‘দুর্ভাগ্য’ কিংবা এই ধরনের কথা বলে বিষয়টাকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করতে চাই না।

আজ আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি।” রেফারির সঙ্গে তখন কী কথা হচ্ছিল, সেটিও জানান মিশরের কোচ। আমি শুধু বলছিলাম, ‘এটা অন্যায়।’ আমি বলছিলাম, হয়তো তার মনে কোনো ক্ষতচিহ্ন আছে। হয়তো তার কিছু লুকানোর আছে। যার কিছু লুকানোর থাকে, সে অনেক সময় তা লুকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে লুকাতে ব্যর্থ হয়।”

সঙ্কেত দিয়ে বৈষম্য বোঝানোর ব্যাপার নিয়েও পরে মুখ খুলেছেন ৫৯ বছর বয়সি কোচ। “সাধারণ জীবন, স্বাভাবিক জীবনে বৈষম্য থাকে, ঠিক আছে। কিন্তু খেলাধুলায় কোনো ন্যায্যতা নেই কেন? এখানে কেন বৈষম্য থাকবে? ফুটবলে কেন বৈষম্য থাকবে?”






Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy