চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

গত চার দিন ধরে টানা ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া

2026-07-09T11:19:04+00:00
2026-07-09T11:19:04+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৯ এএম   (ভিজিট : ১১২)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

গত চার দিন ধরে টানা ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে।

এতে দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়ে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে কোথাও কোমর, কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। 

ফলে এসব সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার পানিবন্দি মানুষ গত তিন দিন ধরে দুর্বিষহ জীবনযাপন করলেও তেমন কোনো সরকারি ত্রাণ সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছেনি।

তবে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলা, পৌরসভা ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পানিবন্দি মানুষের জন্য এ পর্যন্ত ৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের পানিবন্দি মানুষের মাঝে শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত দুই দিন ধরে ইউএনও, এসিল্যান্ডসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এখনো থেমে থেমে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় মাতামুহুরী নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদ। 

ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের বীজতলা ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের ক্ষেত। অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার বাসিন্দাদের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না এবং গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। আবার অনেক স্বজনকে পানিবন্দি পরিবারের কাছে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিতেও দেখা গেছে।

বন্যাকবলিত মানুষের অভিযোগ, তারা গত তিন দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় খেয়ে-না-খেয়ে দিন কাটালেও কোনো জনপ্রতিনিধি তাদের ভালো-মন্দের খোঁজ নিতে আসেননি।

গত চার দিন ধরে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের শঙ্কায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দফায় দফায় মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান বলেন, তাঁর ইউনিয়নের ডেইঙ্গাকাটা, শান্তির বাজার, বিবিরখিল, পহরচান্দা, রসুলাবাদ, হিন্দুপাড়াসহ আরও কয়েকটি ওয়ার্ডে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। 

সোনাইছড়ি নদীতে তীব্র পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছমন্নির ঘাটা এলাকায় চলাচলের সড়ক ভেঙে গিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। সোনাইছড়ি নদীর অববাহিকায় পানির স্রোত বাড়তে থাকায় ইউনিয়নের ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নদীতীরবর্তী এলাকাগুলো ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

এ ছাড়া উপজেলার আরও কয়েকটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তাদের ইউনিয়নগুলোতে নতুন করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আরও অন্তত ৭৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন দেলোয়ার বলেন, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে দুই উপজেলার বেশির ভাগ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।

তিনি বলেন, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজনকে মাইকিং করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যারা এখনো প্রশাসনের নজর এড়িয়ে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান করছেন, তাদেরও সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও আরও বলেন, এ পর্যন্ত চকরিয়া উপজেলা, পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার পানিবন্দি মানুষের জন্য ৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মাতামুহুরী নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে যেতে পারে, সে জন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর পানি নিষ্কাশনের স্লুইস গেটগুলোর কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy