পাইকগাছায় আঁশফলের বাম্পার ফলন ; বাজারে ব্যাপক চাহিদা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

খুলনার পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে আঁশফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এবার

2026-07-09T15:48:05+00:00
2026-07-09T15:48:05+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
পাইকগাছায় আঁশফলের বাম্পার ফলন ; বাজারে ব্যাপক চাহিদা
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৮ পিএম   (ভিজিট : ৪০)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

খুলনার পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে আঁশফলের  বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এবার এই ফলের রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। 

একই সাথে বাজারে এর প্রচুর চাহিদা থাকায় ভালো দাম পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের।‎আঁশফল এক প্রকার লিচু জাতীয় সু-স্বাদু ফল। অনেকের কাছে এটি কাঠলিচু বা লংগান নামে পরিচিতি। এই ফল থোকায় থোকায় লিচুর মতোই ঝুলে থাকে গাছে। এটি দেখতেও অনেকটা লিচুর মতো গোলাকার। তবে আকারে ছোট এবং এর রসাল অংশ খুবই কম। 

আঁশফল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ফল। একে বলা হয় গরীবের লিচু। ফল গোল আকারের, শাঁস সাদা, খুব রসালো ও মিষ্টি। এক সময় দেশেএই আঁশফল খেয়ে আষাঢ় উদযাপন করেছে বাঙালি। আপেল, কমলা, আঙ্গুর, লিচুতে আশক্ত হয়ে এই ফলটির কদর হারিয়েছে। 

স্থানীয় জাতের এই ফলটির গুণগতমান তেমন একটা ভাল না হওয়ায় এর কদর কমলেও উন্নত জাতের আঁশফলের চাহিদা বেড়েছে।‎বর্তমানে বাজারে এর কদর বেড়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছে। উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়ানের কাঠিপাড়া বাজারে প্রতিদিন ভোর বেলা আঁশফল বা কাঠ লিচুর পাইকারি হাট বসে। 

ব্যবসায়ীরা হাট থেকে আঁশফল কিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট ও পাশের জেলাসহ ঢাকা শহরে সরবরাহ করছে। তবে বাদুরের উপদ্রব থেকে আঁশফল রক্ষা করতে ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছে। আঁশফল রক্ষার জন্য প্রায় প্রতিটি গাছ নেট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ আঁশফল বেশ কিছু উন্নত মানের জাত প্রবর্তনের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করেছে। 

দেশে বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে এ গাছ প্রচুর দেখা যায়। এটি দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার উদ্ভিদ। যা ক্রান্তীয় অঞ্চলের বৃক্ষ। আঁশফল গাছ মধ্যমাকারের চিরসবুজ বৃক্ষ। যা ৬ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। বেলে মাটিতে এই গাছ ভালো জন্মে। চলতি মৌসুমে উপজেলার গদাইপুর, রাড়ুলী, হরিঢালী ও কপিলমুনি ইউনিয়নে ছড়ানো ছিটানো আঁশফলের গাছ রয়েছে। 

বাজারে একশটি আঁশফল ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এলাকার এক একটি আঁশফল গাছ পাইকারী ৮শ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আঁশফল ব্যবসায়ী উপজেলার মঠবাটী গ্রামের আলাউদ্দীন জানান, আঁশফল পাঁকা শুরু হলে তাড়াতাড়ি না পাড়লে ঝরে পড়ে। তাছাড়া বাদুর একবার টের পেলে দল বেঁধে এক রাতেই সব ফল খেয়ে সাবাড় করে ফেলে। এ জন্য আঁশফল গাছে নেট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে বাদুরের হাত থেকে রেহায় পেতে। আঁশফল প্রায় আগস্ট মাস পর্যন্ত পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছার মাটি ও আবহাওয়া আঁশফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার গাছে গাছে প্রচুর ফলন এসেছে। রোগবালাইয়ের উপদ্রব কম থাকায় ফলের আকার ও গুণগত মানও বেশ ভালো হয়েছে। চাষিরা জানান, আঁশফল চাষে খরচ তুলনামূলক কম এবং গাছের খুব বেশি বাড়তি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। 

ফলে প্রতি বছরই পাইকগাছায় বাণিজ্যিকভাবে এই ফলের চাষ বাড়ছে। স্থানীয় বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে এখন আঁশফলের দোকানে উপচে পড়া ভিড়। বর্তমানে বাজারে মানভেদে আঁশফল বেশ ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। খুচরা ও পাইকারি উভয় বাজারেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে পাইকগাছায় আঁশফলের ফলন অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। অল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় এলাকার অনেক বেকার যুবকও এখন আঁশফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। আগামীতে এই ফলের চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy