জাল নোট পেলেই ৭ বছরের কারাদণ্ড, আসছে নতুন আইন

অনলাইন ডেস্ক

অর্থ-বানিজ্য

জাল নোট তৈরি, পরিবহন, বাজারজাত বা লেনদেনের পাশাপাশি জেনেশুনে নিজের কাছে জাল নোট রাখলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের

2026-07-10T10:31:54+00:00
2026-07-10T10:31:54+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
জাল নোট পেলেই ৭ বছরের কারাদণ্ড, আসছে নতুন আইন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩১ এএম   (ভিজিট : ৭১)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

জাল নোট তৈরি, পরিবহন, বাজারজাত বা লেনদেনের পাশাপাশি জেনেশুনে নিজের কাছে জাল নোট রাখলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন আনছে সরকার। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয় ‘জাল মুদ্রা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রণীত এই খসড়া ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জনমত গ্রহণের জন্য খসড়াটি বিভাগের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। মতামত পর্যালোচনা শেষে এটি চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

প্রস্তাবিত আইনে জাল মুদ্রাসংক্রান্ত সব ধরনের অপরাধকে একটি একক আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দণ্ডবিধিসহ বিভিন্ন আইনে জাল মুদ্রার বিষয়ে বিধান থাকলেও সেগুলো বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়।

খসড়া আইনে জাল নোট তৈরি, তৈরির চেষ্টা, বিশেষ কাগজ, কালি বা নিরাপত্তা উপকরণ সংগ্রহ, জাল নোট আমদানি-রপ্তানি, পরিবহন, বিক্রি ও বাজারজাত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেনেশুনে জাল নোট নিজের কাছে রাখা বা লেনদেনে ব্যবহার করলেও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টিং মেশিন, বিশেষ কাগজ, কালি ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করার বিধান রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে এসব সরঞ্জাম ধ্বংস করা যাবে। এর ফলে শুধু জাল নোট উদ্ধার নয়, উৎপাদনের পুরো ব্যবস্থাও ভেঙে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।


প্রস্তাবিত আইনে প্রথমবারের মতো জাল মুদ্রার বিভিন্ন ধরন আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টেম্পার্ড নোট, ব্লিচড নোট ও মিসম্যাচড নোট। এর মধ্যে রয়েছে—

টেম্পার্ড নোট: আসল নোটে কারসাজি করে মূল্যমান বা নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন।

ব্লিচড নোট: রাসায়নিক ব্যবহার করে আসল নোটের ছাপ মুছে নতুনভাবে ছাপানো।

মিসম্যাচড নোট: বিভিন্ন নোটের অংশ বা সিরিয়াল নম্বর জোড়া দিয়ে নতুন নোট তৈরি।

এর ফলে সম্পূর্ণ নকল নোটের পাশাপাশি আসল নোট বিকৃত করে প্রতারণার ঘটনাও একই আইনের আওতায় আসবে।

খসড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনীত কারেন্সি অফিসারকে সন্দেহজনক নোট পরীক্ষা করে সেটি জাল কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আদালতে এই প্রত্যয়ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত আইনে অধিকাংশ অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে পুলিশ সরাসরি মামলা গ্রহণ ও তদন্ত করতে পারবে এবং সহজে জামিন বা আপসের সুযোগ সীমিত হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে জাল নোট তৈরির কৌশলেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে কম্পিউটার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রঙিন প্রিন্টার ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল নোট তৈরির প্রবণতা বেড়েছে।

জাল নোটের বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে ঈদসহ বড় উৎসবের সময় জাল নোট চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠায় র‍্যাব, সিআইডি, ডিবি ও বিজিবি নজরদারি বাড়ায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকও ব্যাংকগুলোতে নোট যাচাই যন্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা, গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করে লেনদেনের পরামর্শ দিয়ে আসছে। চলতি বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এদিকে রাজধানীর টঙ্গী ও গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক জানিয়েছেন, খসড়াটি বর্তমানে মতামত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। মতামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর এটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে জাল মুদ্রা তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।






Loading...
Loading...


অর্থ-বানিজ্য এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy