
X
ডুমুরিয়ায় ভারী বর্ষণ
বৃষ্টি কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হলেও ডুমুরিয়াবাসীর জন্য তা অভিশাপ হয়ে পড়েছে! পানি নিষ্কাশনের সু-ব্যবস্থা না থাকায় দু’দিনের ভারি বর্ষনে প্লাবিত হয়েছে অসংখ্য মৎস্যঘের। তলিয়ে যেতে শুরু করেছে বসতি বাড়ি। সরকার জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন করার উদ্যোগ নিলেও তার সুফল পাচ্ছে না জনগণ। পানি সরবরাহের মূল পথ আটকে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা।
জানা যায়, কৃষকদের জন্য প্রকৃতির অন্যতম সেরা আশীর্বাদ বৃষ্টিপাত। যা ফসলের প্রাণ ফেরাতে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে ব্যাপক সহায়ক ভুমিকা পালন করে। কিন্তু সম্প্রতি সময় ডুমুরিয়াবাসীর জন্য ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের জন্য বৃষ্টি অভিশাপ হয়ে পড়েছে। কারণ পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। প্রকৃতির বৈরি আচরনে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার ফলে ভরাট হয়ে গেছে ডুমুরিয়া অঞ্চলের অধিকাংশ নদ-নদী। ফলে গত ৪ বছর যাবত জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে বিলডাকাতিয়াসহ ডুমুরিয়াবাসী। খুলনার শস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত ডুমুরিয়া উপজেলা। একটা সময় বছরে ২৫০ কোটি টাকার বেশি, শুধু শীতকালীন সবজি উৎপাদন হতো এ উপজেলায়। কিন্তু সম্প্রতি জলাবদ্ধতার কারণে বছরে ৬মাস পানিতে তলিয়ে থাকে উপজেলার বৃহত একটি অংশ।
গত দু’দিনের বৃষ্টিতে আবারো জলাবদ্ধতার হুমকীতে পড়েছে এ অঞ্চলসমূহ। শৈলমারী, ভদ্রা ও ঘ্যাংরাইনদী মূলত ডুমুরিয়া উপজেলার পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ। সাগর থেকে আসা পলিতে নদীগুলো একেবারই ভরাট হয়ে গেছে। যার কারণে উপজেলা সদরসহ রংপুর, গুটুদিয়া, রঘুনাথপুর, ধামালিয়া, আটলিয়া, খর্ণিয়া ইউনিয়নে বেশ কিছু গ্রামে কয়েকটি বছর জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। শৈলমারী নদী দিয়ে অন্তত ১০৫টি গ্রামসহ বিলডাকাতিয়া এবং ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন হতো। বর্তমানে এ নদী প্রায় পূর্ণভুমিতে রূপ নিয়েছে।
এছাড়া ভদ্রা ও ঘ্যাংরাইল নদী দিয়ে আটলিয়া, ডুমুরিয়া, খর্ণিয়া, ধামালিয়া, শোভনা, রুদাঘরা, সাহস ইউনিয়নসহ আশপাশ এলাকার পানি নিষ্কাশন হয়। সম্প্রতি এ নদীও নাব্যতা সংকটে ভুগছে। এদিকে হরি নদী বাঁধ দিয়ে উজানের সাড়ে ৮১ কিলোমিটার নদী খনন করতে যেয়ে ভাটি অঞ্চলের প্রায় ১০ কিলোমিটার নদী ইতিমধ্যে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে উত্তর ডুমুরিয়াসহ দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে জলাবদ্ধতার হুমকীতে পড়েছে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর নির্বাচনী ইশতার হিসেবে প্রথমেই খাল খনন কর্মসুচি হাতে নেয়। তারই অংশ হিসেবে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রায় বিলডাকাতিয়ার পানি নিষ্কাশনে সাড়ে ৫ কিলোমিটার খাল খনন করা হলেও মূল নদী (শৈলমারী) খনন প্রক্রিয়া অত্যন্ত মন্থরগতির কারণে আবারো জলাবদ্ধতায় পড়তে যাচ্ছে বৃহত এই অঞ্চল।
রংপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সৌমিত্র বিশ্বাস জানান, ‘পানি নিষ্কাশনের পথ আটকে যাওয়ায় প্রায় বছরভর এ অঞ্চল তলানো আছে। একটুও পানি কমেনি। দুই দিনের বৃষ্টিতে তার মাছের ঘের আবারো তলিয়ে গেছে।’
বাদুরগাছা গ্রামের উত্তম মল্লিক জানান, ‘বৃষ্টি শুরুতেই তলিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে তাদের এলাকায় কয়েকটি বসত বাড়ির আঙিনায় পানি উঠে গেছে। তিতি বলেন, ‘পর্যন্ত বহু নেতাগোতা বা জনপ্রতিনিধির কাছে ধর্না দিয়েছি, কিন্তু কোন কাজ হয়নি। আবারো সেই জলাবদ্ধতা।’
রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনোজিত বালা জানান, ‘পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে কৃষ্ণনগর-নিমতলা খাল খনন করা হয়েছে। কিন্তু শৈলমারী নদী যদি খননে বিলম্ব হয় তা হলে কালিরঘাট স্লুইজ গেট খুলে দিয়ে গত বছরর মত ময়ুর নদী হয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে এ অঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিবে।’
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা জানান, ‘জলাবদ্ধতা দূর না করা পর্যন্ত বৃষ্টি কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হলেও ডুমুরিয়া অঞ্চলের জন্য অভিশাপ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘গত দুই দিনের ভারী বর্ষনে ইতিমধ্যে সবজি ক্ষেত তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। যদি এভাবে লাগাতার বৃষ্টি হয়, তাহলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।’