
X
লিওনেল স্কালোনি।
বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের বৈতরণী পার হতে ভালোই বেগ পেতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। রীতিমতো ঘাম ঝরিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে তারা। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিতে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের, আর মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়টি তো এসেছে শেষ ১৩ মিনিটের নাটকীয়তায়। এই কঠিন ম্যাচগুলো বের করে আনতে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে পুরোপুরি ভরসা করতে হয়েছে তাঁর ডাগআউটে থাকা বিকল্প বা ‘বেঞ্চ অপশন’-এর ওপর। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো—নিকোলাস পাজ এবং ভালেনতিন বার্কোর মতো উঠতি তারকার কাউকে মাঠেই নামাননি স্কালোনি। অথচ এই দুজনেই দুর্দান্ত ছন্দে থেকে বিশ্বকাপে এসেছিলেন।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে নিকোলাস গঞ্জালেস, হুলিয়ান আলভারেজ, লেয়ান্দ্রো পারেদেস, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও গনজালো মন্টিয়েল এবং মিশরের বিপক্ষে গঞ্জালেস, লাউতারো মার্তিনেজ, মন্টিয়েল, নিকোলাস ওতামেন্দি ও ফাকুন্দো মেদিনার ওপর কোচ ভরসা রেখেছিলেন—তা নিয়ে অবশ্য খুব একটা রহস্য নেই। কারণ টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে, যেখানে মাত্র একটি ভুলই বিদায়ের পথ তৈরি করে দিতে পারে, সেখানে কোচিং স্টাফ স্বভাবতই অভিজ্ঞ এবং নিয়মিতদেরই আগে অগ্রাধিকার দেয়। আর ঠিক এই কারণেই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে বারবার একই মুখদের দেখা গেছে।
তবে গ্রুপ পর্বের চিত্রটা ছিল ভিন্ন। জর্ডানের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচের আগেই যখন নকআউট (রাউন্ড অব থার্টি-টু) নিশ্চিত হয়ে গেছে, তখন স্কালোনি একাদশ সাজিয়েছিলেন সম্পূর্ণ বিকল্প খেলোয়াড়দের নিয়ে। যারা সাধারণত বেঞ্চে বসে থাকেন, তাঁদের খেলার সুযোগ করে দিতেই ছিল এই ছক। স্কালোনি বেশ ভালো করেই জানতেন, দল যদি সামনে এগিয়ে যায় তবে এই ফুটবলারদের জন্য আবার মাঠে নামার সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। আর তাই জর্ডানের বিপক্ষে নিকো পাজ শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন এবং পরে বদলি হিসেবে নামানো হয়েছিল বার্কো ও দলের তৃতীয় পছন্দের স্ট্রাইকার হোসে লোপেজকেও।
বর্তমান সমীকরণ যা বলছে, তাতে আর্জেন্টিনা যদি বাকি ম্যাচগুলোতে আগেভাগেই বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে না পারে, তবে এই তরুণদের মাঠে নামার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরই কেবল হুয়ান ফয়েথ, পাউলো দিবালা ও আনহেল কোরেয়াদের মতো টুর্নামেন্টে ম্যাচ না পাওয়া ফুটবলারদের মাঠে নামিয়েছিলেন স্কালোনি। তেমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হলে তাঁদের ডাগআউটেই বসে থাকতে হবে।
প্রথমত, নিকোলাস পাজকে বিবেচনা করা হচ্ছে লিওনেল মেসির বিকল্প হিসেবে। আর আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক তো প্রায় প্রতি ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট খেলছেন। কেবল আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর কোমো-র এই মিডফিল্ডারকে (পাজ) বদলি নামানো হয়েছিল, আর জর্ডানের বিপক্ষে মেসি নিজে নেমেছিলেন দ্বিতীয়ার্ধে।
অন্যদিকে, বার্কোকে মিডফিল্ডের একটা বিকল্প ভাবা হলেও স্ট্রার্সবুর্গের এ তারকা আপাতত জিওভানি লো চেলসোর পেছনে আছেন। লো চেলসো গত দুই ম্যাচে মাঠে না নামলেও গা-গরম করেছেন নিয়মিতই। রিয়াল বেতিসের এই তারকা বর্তমানে দারুণ ছন্দে আছেন—এমনকি জর্ডানের বিপক্ষেও যিনি উজ্জ্বল ছিলেন—তাতে স্কালোনি তাঁকে সামনে ব্যবহার করবেন, এটাই স্বাভাবিক। আর লো চেলসোর পর সেই দৌড়ে বার্কোর পাশাপাশি আছেন এজেকিয়েল পালাসিওসও।
এখন পর্যন্ত স্কালোনির ছক যা বলছে, তাতে আক্রমণের প্রথম পছন্দের বিকল্প হিসেবে আছেন নিকো গঞ্জালেস, যিনি জর্ডান ম্যাচ বাদে প্রতিটি ম্যাচেই খেলেছেন। আর আছেন শুরুর একাদশে সুযোগ না পাওয়া হুলিয়ান আলভারেজ বা লাউতারো মার্তিনেজের যেকোনো একজন। এই তালিকায় থিয়াগো আলমাদাকেও রাখা যায়, যিনি শুরুতে মূল একাদশে থাকলেও গত ম্যাচে জায়গা হারিয়েছেন। এদের বাইরে নতুন কোনো চমকের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। জুলিয়ানো সিমেওনেকে হয়তো দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে দেখার একটা আশা ছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনিও কোনো সুযোগ পাননি। সব মিলিয়ে স্কালোনির চেনা ডাগআউটে বড় কোনো পরিবর্তনের আভাস আপাতত মিলছে না।