
X
আর্লিং হলান্ড। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আর্লিং হলান্ডকে থামানোর কোনো ফর্মুলা বা মন্ত্র এখনও কোনো দলই খুঁজে পায়নি। নরওয়ের হয়ে বিশ্বকাপে ইতিমধ্যে চার ম্যাচে ৭ গোল করে ম্যানচেস্টার সিটির তারকা ফরোয়ার্ড আছেন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার দ্বিতীয় স্থানে; যার মধ্যে সর্বশেষ ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে দ্বিতীয়ার্ধে করা জোড়া গোলও রয়েছে। এককথায় ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নরওয়েজিয়ানদের আক্রমণভাগ একাই টানছেন তিনি। তাতে যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলান্ডকে থামানো।
স্বাভাবিকভাবেই ইংলিশদের পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকবে নরওয়ের ‘গোলমেশিন’ হলান্ডই। প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছেÑবিশ্বকাপে অন্যতম সেরা ছন্দে থাকা এই স্ট্রাইকারকে কীভাবে থামাবে ইংল্যান্ড? প্রিমিয়ার লীগের সাবেক গোলকিপার ব্র্যাড ফ্রিডেলের মতে, সমাধানটা কেবল হলান্ডকে আটকে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
ফ্রিডেল বিশ্বাস করেন, নরওয়ের আক্রমণভাগের ধার কমিয়ে দিতে ‘থ্রি লায়ন্স’ এর মূল কাজটা করতে হবে মার্টিন ওডেগার্ডকে আটকে রেখে। ‘স্পোর্টবাইবেল’-কে ফ্রিডেল বলেন, ‘আপনি চাইলেই কেবল আর্লিং হলান্ডকে থামিয়ে দিতে পারবেন নাÑআসলে একটা ম্যাচে সে খুব বেশি বল স্পর্শও করে না। মূল বিষয় হলো তার কাছে বলের জোগান বা সার্ভিস সীমিত করা। আপনি যদি ওদের উইঙ্গার আর ফুল-ব্যাকদের ক্রস করার সুযোগ করে দেন, তবে বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডারদের জন্যও হলান্ডকে লাফিয়ে ওঠা বা মার্কারের সামনে এসে বল কেড়ে নেওয়া আটকানো কঠিন হয়ে পড়বে।’
ফ্রিডেল আরও যোগ করেন, ‘আপনার প্রথম কাজ হবে হলান্ডের কাছে বল পৌঁছানো বন্ধ করা। অবশ্য এরপরেও হালান্ড শূন্য থেকেই সুযোগ তৈরি করে নিতে পারে, সে এই কাজে অসাধারণ। নরওয়ে দলে মার্টিন ওডেগার্ডই সবচেয়ে বেশি বলের ছোঁয়া পায়, তাই ওডেগার্ডের কার্যকারিতা আপনাকে কমিয়ে আনতে হবে। তবে তারা একজনের ওপর নির্ভরশীল দল নয়Ñওদের আন্তোনিও নুসা, অস্কার ববের মতো আরও অনেক বিপজ্জনক খেলোয়াড় রয়েছে।’
ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথমার্ধে করা ৫৩টি পাসের মধ্যে মাত্র একটি মিস করেছিলেন ওডেগার্ড; প্রতিপক্ষ যদি তাকে সময় আর জায়গা দেয়, তবে মিডফিল্ড থেকে পুরো ম্যাচের লাগাম নিজের হাতে নিয়ে নিতে পারেন তিনি।
শনিবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আর্সেনাল অধিনায়কের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন নরওয়ের প্রধান কোচ স্তালে সলবাকেন। সলবাকেন বলেন, ‘আমাদের দলে ও অমূল্য। নরওয়ের হয়ে ও কখনোই প্রথাগত নাম্বার টেন (অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার) হিসেবে খেলেনি। ও সবসময়ই একজন 'টু-ওয়ে' খেলোয়াড়, যে ম্যাচের সবকটি অংশেই প্রভাব বিস্তার করতে পারে ‘
অন্যদিকে নরওয়ের লক্ষ্য থাকবে হালান্ডের সাবেক বরুশিয়া ডর্টমুন্ড সতীর্থ জুড বেলিংহামকে, গত এক মাস ধরে টমাস টুখেলের দলের হয়ে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বেলিংহাম বর্তমানে বিশ্বমানের পারফর্ম করছেন বলে বিশ্বাস করেন ফ্রিডেল। লিভারপুলের সাবেক এই গোলকিপার বলেন, ‘আমার দেখা সেরাদের কাতারে একদম প্রথম সারিতে থাকবে জুড বেলিংহাম। মাঠে ওর মুভমেন্ট বা নড়াচড়া আমাকে জিনেদিন জিদানের কথা মনে করিয়ে দেয়। এমনকি অল্প জায়গায় (টাইট স্পেস) টেকনিক্যালিও বেলিংহাম দারুণ দক্ষ।’
মাঠে বেলিংহামের বহুমুখী কার্যকারিতা ও অলরাউন্ডার পারফরম্যান্সের ব্যাখ্যা দিয়ে ফ্রিডেল আরও বলেন, ‘জুডের ৮ নম্বর (বক্স-টু-বক্স) এবং ১০ নম্বর (অ্যাটাকিং) উভয় পজিশনেই খেলার ক্ষমতা আছে। ও নিচে নেমে ডিফেন্সকে সাহায্য করে, ট্যাকল করতে পারে, দুই বক্সেই শূন্যে (এয়ারিয়াল ব্যাটেলে) ভালো এবং প্রয়োজনে রক্ষণে এসে গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্সও করতে পারে। ও মাঠের বিশাল অংশ জুড়ে খেলেÑএই দিক থেকে আমি ওকে স্টিভেন জেরার্ডের সঙ্গে তুলনা করতে পারি।’