
X
লিওনেল মেসি।
আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির বয়স এখন ৩৯। এই বয়সেও মাঠের খেলায় জাদুকরী পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে জানান দিচ্ছেন বয়স যেন একটি সংখ্যা মাত্র। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে মেসিকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা আরও একবার জানালেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তাঁর বিশ্বাস, মেসি যত দিন খেলতে চাইবেন, তত দিনই বিশ্বের সেরা ফুটবলার থাকবেন।
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে মেসি। এখন পর্যন্ত আট গোল করে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন তিনি। শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্টও করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাকে শেষ ১১তম মিনিটে ঘুরে দাঁড়াতে নেতৃত্ব দেন মেসি। রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা এই ফরোয়ার্ড একটি গোল করার পাশাপাশি ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর গোলেও সহায়তা করেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে পেশির চোট থেকে সেরে ওঠায় মেসির ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন ছিল। শনিবার ভোরে সুইজারল্যান্ড ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি জানিয়েছেন, মাঠে তার পারফরম্যান্সে কোনো ঘাটতি দেখছেন না।
স্কালোনি বলেন, ‘লিও প্রতি ম্যাচে কম-বেশি একই রকম দৌড়ায়। শারীরিকভাবে এটা সত্যি যে, সে তার ফিটনেস কোচের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং তার ফলও হাতেনাতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে পরিসংখ্যানে তার দৌড়ানোর পরিমাণের খুব একটা হেরফের হয়েছে বলে আমার মনে হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে নিজের সর্বোচ্চটা দিচ্ছে। যখন সে নিজের শতভাগ দেয় এবং বুঝতে পারে যে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ফাটল ধরানো সম্ভব, তখন সে মাঠে যেন একটি অপ্রতিরোধ্য মেশিনে পরিণত হয়।’
মেসির বয়স নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তাদের উদ্দেশে স্কালোনি বলেন, ‘মেসির ফর্ম আমাকে বিন্দুমাত্র অবাক করে না। হয়তো যারা তাকে চেনে না, তারা ভেবেছিল ৩৯ বছর বয়সে এসে সে এই পর্যায়ে ফুটবল খেলতে পারবে না। তবে আমি এর আগেও বহুবার বলেছিÑ ও যতদিন নিজে চাইবে, ও-ই সেরা থাকবে। আমি আর্জেন্টিনার কোচ বলেই যে এ কথা বলছি, তা কিন্তু নয়।’
আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে কানসাস সিটিতে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষকে সমীহ করে স্কালোনি তাদের প্রশংসায় ভাসান। সুইজারল্যান্ড কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে দীর্ঘ ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে।
প্রতিপক্ষকে নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, ফুটবলে কোনো সহজ প্রতিপক্ষ বলে কিছু নেই। সুইজারল্যান্ড খুবই শক্তিশালী দল। ওরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করে এবং সবসময় নিজেদের প্রমাণ করে। ওরা জিতুক বা হারুক, লড়াইটা সবসময় সমানে সমানে দেয়। বিশ্বকাপে ওদের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে এবং শারীরিকভাবেও তারা বেশ শক্তিশালী।’