
X
সংগৃহীত ছবি
প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে আবারও বড় ধরনের রদবদলের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব পদে পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রগুলো বলছে, পদোন্নতি, বদলি, অবসর এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ—এই চার প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে একযোগে ৬ থেকে ১০টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে সচিব পর্যায়ে পরিবর্তন আনা হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনের কার্যকারিতা আরও বাড়ানো।
সূত্র জানায়, যেসব সচিবের চাকরির বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষের পথে, তাঁদের স্থলে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়েও আলোচনা শেষ হয়েছে।
প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক নীতিতে সততা, মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে কর্মদক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্প্রতি প্রশাসনে ১৭৯ জন উপসচিবকে পদোন্নতি দিয়ে যুগ্ম সচিব করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে এটিই সচিবালয় প্রশাসনের প্রথম বড় পদোন্নতি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি প্রশাসনে মেধাভিত্তিক পদায়নের নীতিরই অংশ।
সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের পদেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া চলতি মাসের শেষ দিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম অবসরে যাওয়ায় ওই পদেও নতুন নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব পর্যায়ে রদবদলের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
বর্তমানে সরকারের ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ৮৪ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে কোনো দপ্তরের দায়িত্বে নেই এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত আছেন। আসন্ন রদবদলে তাঁদের মধ্য থেকেও নতুন পদায়ন হতে পারে বলে জানা গেছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব পদে নিয়োগ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এ পদে নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে এবং প্রয়োজনে এটি পরবর্তী পর্যায়েও হতে পারে।
প্রশাসনের একাধিক সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য রদবদলে কয়েকজন বর্তমান সচিবের দপ্তর পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন কয়েকজন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশাসনের এই পুনর্বিন্যাসকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো দক্ষ, সৎ ও কর্মক্ষম কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এনে সেবার মান বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা। সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই সচিব পর্যায়ের বহুল আলোচিত এই রদবদলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।