
X
দুর্দান্ত গোলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জুলিয়ান আলভারেজ।
১-১ সমতায় থাকা ম্যাচ তখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, হঠাৎ দৃশ্যপটে হাজির হন এবারের বিশ্বকাপে নিজের ছায়া হয়ে থাকা হুলিয়ান আলভারেজ। নিজের জাদুকরী স্কিলে মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আর্জেন্টিনার তারকা ফরোয়ার্ড। ডান পায়ের এক দুর্দান্ত শটে বল জালের ওপরের কোণায় পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে এগিয়ে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের জালে আরও এক গোল পাঠিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে নিজের গোল নিয়ে তৃপ্তির সুরে আলভারেজ বলেন, ‘শটটা দারুণ লেগেছিল।’ এর আগে ম্যাচজুড়ে নিজেদের ডিবক্সের সামনে রক্ষণভাগ আগলে রাখা সুইস দেয়াল কোনোভাবেই ভাঙতে পারছিল না আর্জেন্টিনা; সুইজারল্যান্ড যেন কেবল পেনাল্টি শুটআউটের জন্যই অপেক্ষা করছিল। ডেডলক ভাঙতে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বদলি হিসেবে মাঠে নামান হোসে ম্যানুয়েল লোপেজকে। মাঠে নেমেই ডান প্রান্ত দিয়ে বল ড্রিবল করে তিনি পাস বাড়ান জুলিয়ান আলভারেজের দিকে।
এবারের বিশ্বকাপের এর আগে জালের দেখা না পাওয়া ‘স্পাইডার’ আলভারেজ এবার কোনো ভুল করেননি। ডান পায়ের এক চোখধাঁধানো শটে সুইজারল্যান্ডের গোলকিপার গ্রেগর কোবেলকে পরাস্ত করে বল জড়ান জালের ওপরের বাম কোণায়। আর তাতেই কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে উপস্থিত সিংহভাগ আর্জেন্টাইন সমর্থক উল্লাসে মেতে ওঠেন।
ম্যাচ শেষে নিজের সেই অবিশ্বাস্য গোল নিয়ে আলভারেজ বলেন, ‘এর আগেও আমি একটা শট নিয়েছিলাম। এবার সামনে কিছুটা ফাঁকা জায়গা পেয়ে যাই, কেউ আমাকে বাধাও দিতে আসেনি। আমি সুযোগটা কাজে লাগিয়ে দারুণ একটা শট নিই। সত্যি বলতে, গোলটা অসাধারণ ছিল।’
ম্যাচের কঠিন লড়াই নিয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের স্ট্রাইকার আলভারেজ আরও যোগ করেন, ‘ওদের একজন কম (লাল কার্ড) থাকার পরও ম্যাচটা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে গিয়েছিল। তবে আমরা জানতাম, সবাই মিলে একসঙ্গে চাপ ধরে রাখতে পারলে গোল আসবেই। অবশ্যই আমরা ম্যাচটা আরও আগেই শেষ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা জানতাম কাজটা সহজ নয়; বিশ্বকাপের সব ম্যাচই এমন কঠিন হয়। ট্রফি ধরে পথে আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি।’
পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো ম্যাচের ইনজুরি টাইম হিসেবে ৪ মিনিট যোগ করেন। সমতায় ফিরতে মরিয়া পুরো সুইস দল তখন আক্রমণে উঠে আসে, যার ফলে তাদের রক্ষণভাগ একদম অরক্ষিত হয়ে পড়ে। আর্জেন্টিনা ঠিক এই সুযোগটাই কাজে লাগায়।
থিয়াগো আলমাদার এক নিখুঁত প্রতি-আক্রমণে উঠে আলবিসেলেস্তেরা। আলমাদা সুইজারল্যান্ডের গোলকিপার কোবেলকে একা পেয়েও প্রথম দফায় গোল করতে ব্যর্থ হন; তবে পেছন থেকে ছুটে এসে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন লাউতারো মার্তিনেজ। ডান পায়ের দারুণ প্লেসমেন্টে বল পোস্টে লাগিয়ে জালে জড়ান তিনি, আর তাতেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালের টিকিট।
ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে আর্জেন্টিনার শেষ গোলটি করা মার্তিনেজ বলেন, ‘আরও একবার আমাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভুগতে হলো, ম্যাচটা আবারও অতিরিক্ত সময়ে গড়াল। প্রতিপক্ষ শেষ মুহূর্তে পাঁচজনের রক্ষণভাগ তৈরি করলেও দল ধৈর্য হারায়নি, আমরা মাঠের দুই প্রান্ত ব্যবহার করে বল পাস দিয়ে গেছি। ভাগ্য ভালো যে আমরা গোলগুলো পেয়েছি এবং জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালে পা রেখেছি।’
নিজেদের পারফরম্যান্সের ঘাটতি নিয়ে মার্তিনেজ আরও যোগ করেন, ‘আমরা যেভাবে খেলতে চাই, ঠিক সেভাবে খেলতে পারছি না। ম্যাচের কিছু কিছু অংশে আমরা দুর্দান্ত খেললেও, পুরো সময়জুড়ে সেই ছন্দ ধরে রাখা যাচ্ছে না। আমাদের প্রতিপক্ষও তো শক্তিশালী, তারা আমাদের ওপর চাপ তৈরি করে কাজটা কঠিন করে তুলছে। তবে সমর্থকদের বলব—আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখুন। গত আট বছর ধরে আমরা যেভাবে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছি, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। আর্জেন্টিনাকে সর্বোচ্চ চূড়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আমাদের সেরাটাই দিয়ে যাব।’
বিশ্বজয়ের এই মিশনে আগামী বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে পরাশক্তি ইংল্যান্ড। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী লিওনেল মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘থ্রি লায়ন্সের’ বিপক্ষে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে প্রথম অভিজ্ঞতা।