ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘স্পেশাল’ ম্যাচের অপেক্ষায় মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলাধুলা

বিশ্বকাপ ইতিহাসের মহাকাব্যিক কিছু ম্যাচ উপহার দিয়েছে আর্জেন্টনা ও ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের বাইরেও স্মরণীয় কিছু লড়াই হয়েছে। রাজনৈতিক অতীতের

2026-07-13T19:59:43+00:00
2026-07-13T19:59:43+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘স্পেশাল’ ম্যাচের অপেক্ষায় মেসি
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম   (ভিজিট : ৪২)
লিওনেল মেসি
X

লিওনেল মেসি

বিশ্বকাপ ইতিহাসের মহাকাব্যিক কিছু ম্যাচ উপহার দিয়েছে আর্জেন্টনা ও ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের বাইরেও স্মরণীয় কিছু লড়াই হয়েছে। রাজনৈতিক অতীতের কারণেও দুই দলের লড়াইয়ে থাকে বাড়তি উত্তেজনার রসদ। অথচ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে কখনও ইংলিশদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাননি লিওনেল মেসি। এবারের ম্যাচটি নিয়ে তাই রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় আর্জেন্টাইন মহানায়ক।

১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাদোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ও একই ম্যাচে জাদুকরী আরেক গোলের সেই ম্যাচের পর থেকেই আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই সবসময়ই তুমুল উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে বিরোধের জের ধরে ফুটবলে যোগ হয়েছে রাজনৈতিক মসলাও। ১৯৯৮ ও ২০০২ বিশ্বকাপেও এই দুই দলের লড়াই ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে।

২০০২ আসরে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ইংল্যান্ডের জয়ের পর থেকে এই পর্যন্ত বিশ্বকাপে আর দেখা হয়নি দুই দলের। ২০০৫ সালের পর প্রীতি ম্যাচেও আর কখনও মুখোমুখি হয়নি তারা। জেনেভায় সেবার ওই ম্যাচটিতে দুই দফায় পেছন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ গোলে জিতেছিল ইংলিশরা। মেসির ততদিনে আন্তর্জাতিক অভিষেক হলেও ওই ম্যাচটিতে খেলতে পারেননি লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে।

সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সুযোগ আর পাওয়া হয়ে ওঠেনি মেসির। এবার সেই অচেনা স্বাদ তিনি পেতে চলেছেন। এই দুই দলকে নিয়ে যে কোনো ফুটবলীয় আলোচনায় ১৯৮৬ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ উঠে আসা অবধারিতই। এবারও তা আসছে। ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে মেসি বললেন, আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে এই ম্যাচের আবেদন অন্যরকম।

“ওই ম্যাচ (১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড) নিয়ে আমি যা কিছু দেখেছি এবং মনে করতে পারি, সবই ভিডিও দেখে এবং ছবি থেকে। আর্জেন্টাইনরা প্রতিনিয়ত এসব দেখে এবং বারবার স্মরণ করে। তবে আমি মনে করি, আমাদের এই দলটি জানে কীভাবে ফুটবল খেলতে হয়, প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন।

“আমরা এটাকে এর আসল রূপেই গ্রহণ করব: একটি পরাশক্তি, একটি দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল ম্যাচ এবং আমরা আবারও চেষ্টা করব লড়াই করার জন্য সম্ভাব্য সেরা অবস্থায় পৌঁছানোর।”

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচের ওজন নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এই ম্যাচ মেসির কাছে আরও শেষ কিছু হয়ে উঠছে প্রতিপক্ষের কারণেও। “স্বাভাবিকভাবেই, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা বিশেষ কিছু, কারণ তারা শক্তিশালী দল এবং এমন দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচ সবসময়ই স্পেশাল হয়। ব্যক্তিগতভাবে, তাদের বিপক্ষে আমি এই প্রথম খেলতে যাচ্ছি। ইংল্যান্ড ছাড়া সবার বিপক্ষেই খেলেছি, এই কারণেও ম্যাচটি ভালো লাগবে।”

মেসির এই রোমাঞ্চ স্পর্শ করছে তার সতীর্থদেরও। রদ্রিগো দে পল যেমন বললেন, এর মধ্যেই ব্যাপারটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে তাদের। হ্যাঁ, আমরা জানি (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম খেলবেন মেসি)। আমরা এক পর্যায়ে এটা নিয়ে কথা বলেছিলাম। দারুণ ম্যাচ হবে, কিন্তু স্কালোনি যেমনটা বলেছেন, এটি স্রেফ আরেকটি ফুটবল ম্যাচ। তবে সেমিফাইনাল হওয়ায় এর বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু আমরা প্রস্তুত।”

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, যাদের সঙ্গে ক্যারিয়ারে প্রথমবার খেলার অভিজ্ঞতা হবে মেসির। গত বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা এবারও পৌঁছে গেছে সেমিফাইনালে। নকআউট পর্বে টানা তিন ম্যাচে মুখোমুখি হতে হয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জের। তবে শেষ পর্যন্ত ঠিকই ম্যাচ জিতে একের পর এক ধাপ পার হয়ে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে টিকে আছে আর্জেন্টিনা। স্বয়ং লিওনেল মেসি বলছেন, তাদের এমন সাফল্যযাত্রা সাধারণ ও স্বাভাবিক কোনো ব্যাপার নয়। তার মতে, সমর্থকদের উচিত সময়টা উপভোগ করা, কারণ কেউ জানে না আবার কবে এমন সময় আসবে।

১৯৭৮ বিশ্বকাপে প্রথমবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পাওয়া আর্জেন্টিনা পরের বিশ্বকাপে বাদ পড়ে যায় দ্বিতীয় ধাপের গ্রুপ পর্ব থেকে। পরের দুটি বিশ্বকাপে তারা ফাইনালে খেলে। দিয়েগো মারাদোনার অসাধারণ পারফরম্যান্সে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। ১৯৯০ আসরে খুব কাছাকাছি গিয়েও ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে যায় শেষ সময়ের পেনাল্টি গোলে।

এবার শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা আবার জাগিয়ে তুলেছে তারা। প্রয়োজন স্রেফ আর দুটি জয়। সেমিফাইনালে আসার পথটা এবার অবশ্য সহজ ছিল না তাদের। প্রতিপক্ষরা যদিও কাগজে-কলমে পিছিয়ে ছিল তুলনামূলকভাবে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে সেমি-ফাইনালে উঠেছে তারা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা কোনো দলের বিপক্ষে না খেলেই। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে কেইপ ভার্ড, শেষ ষোলোয় মিশর ও কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় তাদের।

ফেভারিট হয়েও ম্যাচের পর ম্যাচ এমন ভোগান্তি কাম্য নয় কোনো দলেরই। তবে এই যে তুমুল লড়াই করে জয়, পেছন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়, এসবের অন্য রোমাঞ্চও তো আছে! ইএসপিএন আর্জেন্টিনার সঙ্গে কথোপকথ মেসি তুলে ধরলেন সেই দিকটিই।

টানা দুটি কোপা আমেরিকা ও মাঝে একটি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও যে তীব্র তাড়না নিয়ে খেলছে দল, তা দারুণ প্রশংসনীয় বলে মনে করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এটা ভালো যে (আর্জেন্টিনার) জনগণও আমাদের মতোই এটি উপভোগ করছে। আমরা এভাবেই বাঁচি।

আর এই দলে এমন ফুটবলার আছে, যারা অস্বাভাবিক কাজ করতে অভ্যস্ত। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, আমরা যা কিছু জিতেছি, এই সবকিছু জয়ের পরও আবার ক্ষুধা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া এবং এই পর্যায়ে শীর্ষ চারের মধ্যে থাকা, আরেকটি সেমিফাইনালে খেলা, এসব সহজ নয়, স্বাভাবিক নয়। সেজন্যই আমাদের এটা যতটা সম্ভব উপভোগ করতে হবে।”

১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর ৩৬ বছর বিশমঞ্চে ট্রফির দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। ১৯৯৩ কোপা আমেরিকা জয়ের পর মহাদেশীয় এই সাফল্যের জন্যও অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৮ বছর। সেই আর্জেন্টিনা এখন সময়ের পরিক্রমায় অপ্রতিরোধ্য সাফল্য রথে ছুটছে। ভবিষ্যতে আবার করে এমন সময় আসবে, মেসিরও অজানা। 

আর্জেন্টাইন মহানায়ক তাই সময়টাকে উপভোগ করতে এবং মূল্যায়ন করতে বললেন,‘ আমরা জানি না, আবার কখনও এরকম কিছু হবে কি না। যদি হয়ও, জানি না সেটা কবে হবে। গতবারের আগে আমরা দীর্ঘ সময় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ছিলাম না। এরপর তাই যা কিছু আসবে, সবকিছু উপভোগ করা এবং কদর করা উচিত। আমরা চেষ্টা করব বিশ্রাম নিতে, শক্তি ফিরে পেতে এবং সেমি-ফাইনালে নেমে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে।’







Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy