
X
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।
২১ বছর পর ফুটবলে কোনো ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা, ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে। এর হাত ধরে আলোচনায় ফিরেছে গত কয়েক দশকের মাঠের নানা নাটকীয় ঘটনা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ। তবে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি চান, সেমি-ফাইনালের আগে কথা হোক কেবল ফুটবল নিয়েই।
আটলান্টায় আগামী ১৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। আর এই ম্যাচের আগে অতীতের অনেক আলোচিত-সমালোচিত প্রসঙ্গ সামনে আসছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পথে কোয়ার্টার-ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড। জিওফ হার্স্টের একমাত্র গোল ব্যবধান গড়ে দেয় দুই দলের মধ্েয। আর্জেন্টিনার দাবি ওই গোল ছিল অফসাইড, তাদের কাছে ইংল্যান্ডের ওই জয় ‘শতাব্দীর সেরা ডাকাতি।’
১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, ১৯৮৬ আসরে দিয়েগো মারাদোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল নিয়ে কথা হচ্ছে। ১৯৯৮ সালে শেষ ষোলোয় রোমাঞ্চকর লড়াই ২-২ ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে জিতে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। চার বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারে তারা। টুর্নামেন্টের ফেভারিটদের একটি হয়েও বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকে।
এবার কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানোর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসছে ম্যাচ নিয়ে কথা বলেন আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি,‘ এটা একটা ফুটবল ম্যাচ। এটা নিয়ে আর কোনো কথা নয়। এটা নিয়ে আর কিছু বলার নেই।’
নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের বিপক্ষে কেবল মাঠের ফুটবলেই মনোযোগ দিচ্ছেন স্কালোনি,‘ আসুন আমরা অন্য কিছু না খুঁজি। এটা একটা ফুটবল ম্যাচ। দারুণ একটি জাতীয় দলের বিপক্ষে আমরা একটি ফুটবল ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি, যাদের একজন দারুণ কোচ আছে, যাকে আমি খুব পছন্দ ও শ্রদ্ধা করি।’
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টাইনদের কাছে মালভিনাস নামে পরিচিত। ১৯৮২ সালে এখানে সংঘাতে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন সামরিক সদস্য, ২৫৫ জন ব্রিটিশ ও তিনজন দ্বীপবাসী নিহত হন। সেই সময় থেকে আজও দুই দেশের মধ্যে ওই প্রসঙ্গ খুব সংবেদনশীল।
ফকল্যান্ডের উপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে যুক্তরাজ্য এবং সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখে। অন্য দিকে কূটনৈতিক মাধ্যম ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্ট চলার সময়েও এই প্রসঙ্গ এসেছে। আর্জেন্টিনার জয়ের পর দর্শকরা গানে মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ, মারাদোনা ও আরেকটি বিশ্বকাপ দিয়ে লিওনেল মেসিকে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার কথা বলেছেন।
ম্যাচের পেছনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানেন আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড হোসে মানুয়েল লোপেস। তবে তিনিও কেবল মাঠের ফুটবলেই মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন,‘ অবশ্যই, মাঠের বাইরে এটি এমন এক ম্যাচ- যার রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, অনেক বেদনা এবং আরও অনেক কিছু। তবে আমরা পেশাদার। অন্য ম্যাচগুলো যেভাবে খেলি, এই ম্যাচও সেভাবেই খেলব। আজ যেমন দেখিয়েছি, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে নিজেদের সবটুকু দেব।
“এটা বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, আমি মনে করি, আমার সব সতীর্থই বলে প্রথম লাথি মারার মুহূর্ত থেকে এই ম্যাচ খেলার স্বপ্ন দেখেছে। এর বাইরে অন্য কোনো অনুপ্রেরণা আমাদের প্রয়োজন নেই।”