
X
হাইভোল্টেজ ম্যাচের রেফারি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইসমাইল এলফাতকে নিয়োগ দিয়েছে ফিফা।
২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে আগামী বুধবার রাতে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের রেফারি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইসমাইল এলফাতকে নিয়োগ দিয়েছে ফিফা।
চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করা এই রেফারি সম্প্রতি কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে আলোচনায় এসেছেন। তবে আলবিসেলেস্তেদের জন্য তিনি কিছুটা পরিচিত মুখ। কারণ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ইসমাইল এলফাত চতুর্থ রেফারি হিসেবে মাঠে ছিলেন।
এবারের আসরে এলফাত গ্রুপ পর্বে ২-২ গোলে ড্র হওয়া নেদারল্যান্ডস-জাপান এবং উরুগুয়ের বিপক্ষে স্পেনের ১-০ গোলের জয় ম্যাচটি পরিচালনা করেন। এছাড়া শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের ২-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচটিতেও দায়িত্বে ছিলেন।
এই তিন ম্যাচে এলফাত মোট ৮টি হলুদ কার্ড এবং ১টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। লাল কার্ডটি পেয়েছিলেন উরুগুয়ের অগুস্তিন কানোবিও, ম্যাচের শেষ দিকে পাউ কুবার্সিকে মারাত্মক ফাউল করায় তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়, যা তাদের বিদায় নিশ্চিত করেছিল।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটির পর স্প্যানিশ গণমাধ্যমে এলফাতের ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়। তাদের মূল অভিযোগ ছিল, উরুগুইয়ান খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত কড়া ও ফাউল করে খেলার পরও তিনি ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে শক্ত ভূমিকা রাখতে পারেননি।
তাঁকে নিয়ে সবচেয়ে বড় ক্ষোভ ছিল রদ্রিগো বেনতানঙ্কুরের একটি ফাউল নিয়ে, যার শিকার হয়েছিলেন ইনিয়াকি উইলিয়ামস। ওই ফাউলের কারণে উইলিয়ামসকে বেশ কয়েকটি ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হয়, অথচ এলফাত সেটিতে কেবল একটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন।
তাছাড়া, ব্রাজিলের ম্যাচে নরওয়ের ক্রিস্তোফার আয়ের কর্তৃক মাথেউস কুনিয়াকে করা স্পষ্ট পেনাল্টিটি এলফাত প্রথমে এড়িয়ে যান। পরে ভিএআর রিভিউয়ে পেনাল্টি দেওয়া হয় ব্রাজিলকে। যদিও ব্রুনো গিমারায়েসের মিসের কারণে কোনো লাভ হয়নি সেলেসাওদের।
সেদিন তিনি সেলেসাওদের পক্ষে দ্বিতীয় আরেকটি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন। স্পট কিকে নেইমার গোল করলেও কার্লো আনচেলত্তির দল শেষ পর্যন্ত বিদায় এড়াতে পারেনি। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলিয়ান শিবিরের হতাশা ও ক্ষোভের কারণে মাঠের পরিবেশ বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
৪৪ বছর বয়সি এলফাতের জন্ম মরক্কোর ক্যাসাব্লাঙ্কায়। ১৮ বছর বয়সে তিনি টেক্সাসের অস্টিন ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তবে শৈশব থেকেই ফুটবল তার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। জীবনের এক পর্যায়ে তিনি খেলা ছেড়ে রেফারি কোর্স করার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরবর্তীতে নিজের দেশের অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০১ সালে তিনি ‘ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রোগ্রাম’ (যা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে)-এর মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন।
২০১৬ সাল থেকে এলফাত ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত এবং তার ক্যারিয়ারের বড় অংশ কেটেছে আমেরিকার মেজর লিগ সকারে (এমএলএস)। এই কারণে আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসির ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে। ২০২৩ সালের লিগস কাপের ফাইনালে তিনি রেফারি ছিলেন, যেখানে ন্যাশভিলের সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর পেনাল্টি শুটআউটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইন্টার মায়ামি।
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এলফাত বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, গোল্ড কাপ, অলিম্পিক গেমস, অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপের মতো শীর্ষ পর্যায়ের টুর্নামেন্ট পরিচালনা করেছেন। এমনকি টোকিও ২০২০ অলিম্পিকেও আর্জেন্টিনা দলের ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন তিনি। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল আর্জেন্টিনা, কারণ কোয়ালিফাই করতে তাদের জয়ের প্রয়োজন ছিল। সেদিন আর্জেন্টিনার একাদশে ছিলেন ফাকুন্দো মেদিনা ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, যারা বর্তমান বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও রয়েছেন।
কাতার বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচ (পর্তুগাল-ঘানা, ক্যামেরুন-ব্রাজিল এবং শেষ ষোলোতে জাপান-ক্রোয়েশিয়া) পরিচালনার পর এটি তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সহকারী রেফারি (লাইনসম্যান) হিসেবে তাঁর সঙ্গে থাকবেন স্বদেশী কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিন্স। আর চতুর্থ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইতালির মাউরিজিও মারিয়ানি।