
X
ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টুখেল ও জুড বেলিংহ্যাম
২০১৮ সালের পর এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। শেষ চারের লড়াইয়ে হ্যারি কেনদের প্রতিপক্ষ গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এ পর্যন্ত ফুটবল মাঠে দুই দেশ মুখোমুখি হয়েছে ১৪ বার। তাতে ছয় বার জিতেছে ইংল্যান্ড। আর্জেন্টিনার জয়ের সংখ্যা চার। শেষ বার দুই দল খেলেছিল ২০০৫ সালের ১২ নভেম্বর।
প্রায় ২১ বছর পর ফের মুখোমুখি ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা। সে বছরই আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক লিওনেল মেসির। যদিও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচ খেলেননি ১৮ বছরের মেসি।
আর্জেন্টিনার অধিনায়কের মতো ইংল্যান্ডের অধিনায়ক কেনও সেই ম্যাচে ছিলেন না। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অভিষেক ওই ম্যাচের ১০ বছর পর। দুই দলের কোনো ফুটবলারেরই ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তবে পেশাদার ফুটবলে একসঙ্গে বা বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে অনেকেরই।
যেমন ইংল্যান্ডের এজরি কনসা এবং ওলি ওয়াটকিন্স আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সঙ্গে অ্যাস্টন ভিলায় খেলেন। ইংল্যান্ডের রিস জেমস এবং আর্জেন্টিনার এঞ্জো ফ্রের্নান্দেজ চেলসিতে সতীর্থ। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং কেন একসঙ্গে খেলেছেন টোটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে মুখোমুখি না হলেও প্রতিপক্ষ অচেনা নয়। আধুনিক ফুটবলে এটা কোনো সমস্যা নয়। প্রত্যেক দলের কাছেই প্রতিপক্ষ দলগুলো বা ফুটবলারদের শক্তি-দুর্বলতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য থাকে। সেভাবেই রণকৌশল তৈরি করেন কোচেরা। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে টমাস টুখেলও সতর্ক থাকবেন।
প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতার পাশাপাশি নিজের দলের শক্তি-দুর্বলতাও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে। যদিও তার দল বেশ ভাল ফুটবল খেলছে।
ইংল্যান্ডের শক্তি:
প্রচুর বিকল্প: টুখেলের সবচেয়ে বড় শক্তি হল তার হাতে থাকা বিকল্প। দলের অন্তত ২২-২৩ জন ফুটবলারকে নিশ্চিন্তে প্রথম একাদশে রাখতে পারেন। অভিজ্ঞতা এবং লড়াকু মানসিকতার অভাব নেই। প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা রক্ষণ ভাগও টুখেলের হাতে। তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিরুদ্ধে। আর্লিন হালান্ডের মতো ফুটবলারকে নিষ্প্রভ করে রেখেছিল ইংল্যান্ডের রক্ষণ।
গতিশীল ফুটবল: ইংল্যান্ডের ফুটবলারেরা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আক্রমণে উঠতে বা রক্ষণে নামতে পারেন। মাঠের দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের জুড়ি মেলা ভার। বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের গতি সমস্যায় ফেলেছে একাধিক দলকে।
শারীরিক সক্ষমতা: এ বারের বিশ্বকাপে শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকে অন্যতম সেরা দল ইংল্যান্ড। ফুটবলারেরা অসম্ভব পরিশ্রম করতে পারেন। দলের প্রায় সকলেই ১২০ মিনিট অনায়াসে খেলে দিতে পারেন। যা নকআউট ম্যাচে টুখেলের বাড়তি সুবিধা।
সেট পিস: কর্নার কিক বা ফ্রিকিকে ইংল্যান্ড অত্যন্ত শক্তিশালী। ফুটবলারদের গড় উচ্চতা আর্জেন্টিনার থেকে বেশি। ফলে ভেসে আসা বলে সুবিধাজনক জায়গায় ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপেও সেট পিস ভাল কাজে লাগাচ্ছেন ইংল্যান্ডের ফুটবলারেরা।
ইংল্যান্ডের দুর্বলতা:
রক্ষণাত্মক হয়ে যাওয়া: ইংল্যান্ড দল খেলার মাঝে হঠাৎ হঠাৎ কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে যায়। অনেক সময় ম্যাচের শুরুর ১০-১৫ মিনিট কিছুটা সতর্ক থাকার চেষ্টা করে। তাতে প্রতিপক্ষ দল মাঝমাঠের দখল নিয়ে নেয়। চাপে পড়ে যায় রক্ষণ। গ্রুপ পর্বের ঘানার বিরুদ্ধে এ ভাবে খেলতে গিয়েই পয়েন্ট খুইয়ে ছিল টুখেলের দল।
রক্ষণে ফাঁক তৈরি হওয়া: আগ্রাসী ফুটবল খেললে ইংল্যান্ডের রক্ষণের ফুটবলারেরা প্রায় মাঝ মাঠে উঠে যান। এতে গোলরক্ষক এবং ডিফেন্স লাইনের মাঝে অনেকটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। আর্জেন্টিনা হঠাৎ দ্রুত গতিতে প্রতিআক্রমণে উঠতে দক্ষ। ডিফেন্স লাইনের পিছনে ফাঁকা জায়গার সুবিধা কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ডকে বিপদে ফেলে দিতে পারেন মেসিরা। বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গো, মেক্সিকো, ক্রোয়েশিয়ার মতো দলগুলো ইংল্যান্ডের এই দুর্বলতা দেখিয়ে দিয়েছে।
প্রত্যাশার চাপ: প্রথম বিশ্বকাপ জেতার পর ৬০ বছর কেটে গিয়েছে। ইংল্যান্ড দলের উপর প্রত্যাশার পাহাড় প্রমাণ চাপ থাকবে। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে এই চাপ সামলাতে হবে কেনদের। তা ছাড়া বড় প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের সাফল্যের হার বেশ কম।