আর্জেন্টিনা নাকি ইংল্যান্ড, কারা যাবে ফাইনালে জানালো সুপারকম্পিউটার

স্পোর্টস ডেস্ক

খেলাধুলা

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবারও ফিরে এসেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। বুধবার দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে মুখোমুখি

2026-07-15T15:42:22+00:00
2026-07-15T15:42:22+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
আর্জেন্টিনা নাকি ইংল্যান্ড, কারা যাবে ফাইনালে জানালো সুপারকম্পিউটার
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪২ পিএম   (ভিজিট : ১৫৭)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবারও ফিরে এসেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। বুধবার দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। যে দল জিতবে, তারাই খেলবে বিশ্বকাপের ফাইনালে। ফলে দুই দলের সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি।

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার দ্বৈরথ কেবল ফুটবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের রাজনৈতিক উত্তেজনাও একসময় দুই দেশের ফুটবল লড়াইয়ে প্রভাব ফেলেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের উত্তাপ কমলেও মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনো একই রকম তীব্র।

এই লড়াইয়ের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার দুটি গোল ফুটবল ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছে। প্রথমটি ছিল ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে পরিচিত বিতর্কিত গোল, আর দ্বিতীয়টি নিজের অর্ধ থেকে একক নৈপুণ্যে করা অবিশ্বাস্য গোল, যা পরে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।

এর ১২ বছর পর ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে ডিয়েগো সিমেওনের ওপর লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেছিলেন ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম। পরে দীর্ঘ সময় ইংলিশ সমর্থকদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে।

তবে ২০০২ বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছিলেন বেকহ্যামই। গ্রুপ পর্বে পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন তিনি। সেটিই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ দেখা।

সম্প্রতি কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোর ম্যাচে গ্যালারিতে একসঙ্গে বসে খেলা দেখেছেন বেকহ্যাম ও সিমেওনে। অনেকের মতে, এটি দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতীক। তবে মাঠে নামলেই সেই পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবারও ফিরে আসে।

সেমিফাইনালে উঠতে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। শেষ আটে নরওয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও অতিরিক্ত সময়ে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় থমাস টুখেলের দল। ম্যাচের দুই গোলই করেন জুড বেলিংহ্যাম।

চলতি বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন বেলিংহ্যাম। ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে একাধিক ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার কীর্তিতে তার চেয়ে এগিয়ে আছেন কেবল হ্যারি কেইন (৪ ম্যাচ) ও গ্যারি লিনেকার (৩ ম্যাচ)। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মিডফিল্ডারদের মধ্যে বেলিংহ্যামের চেয়ে বেশি এমন ম্যাচ আছে শুধু পেরুর তেওফিলো কুবিয়াসের।

বেলিংহ্যাম ও অধিনায়ক হ্যারি কেইন দুজনই এবারের বিশ্বকাপে ছয়টি করে গোল করেছেন। বিশ্বকাপের এক আসরে একই দলের দুই খেলোয়াড়ের ছয় বা তার বেশি গোল করার ঘটনা এবারই প্রথম।

সেমিফাইনালে খেললে ইংল্যান্ডের জার্সিতে ১২১তম ম্যাচ খেলবেন কেইন। এতে গোলরক্ষক পিটার শিলটন (১২৫) ছাড়া ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার হয়ে যাবেন তিনি।

২০১৮ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে এটি ইংল্যান্ডের চতুর্থ সেমিফাইনাল। এর আগে ২০১৮ সালের আগে নিজেদের ইতিহাসে মোট চারবার শেষ চারে উঠেছিল দলটি। এবার ৬০ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর মিশনে নেমেছেন জার্মান কোচ থমাস টুখেল। তিনি সফল হলে নিজ দেশের বাইরে অন্য একটি জাতীয় দলকে নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা ইতিহাসের চতুর্থ কোচ হবেন।

পরিসংখ্যানেও দুই দলের লড়াই বেশ জমজমাট। এখন পর্যন্ত ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ছয়টি, আর্জেন্টিনা দুটি এবং বাকি ছয়টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। যদিও ড্র হওয়া একটি ম্যাচে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সর্বশেষ হার ১৯৮৬ সালের সেই বিতর্কিত কোয়ার্টার ফাইনাল। এরপর পাঁচটি ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে অপরাজিত রয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সর্বশেষ দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। সর্বশেষ ২০০৫ সালের প্রীতি ম্যাচে মাইকেল ওয়েনের জোড়া গোল ও ওয়েন রুনির এক গোলে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল তারা।

পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাসেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটারের হিসেবে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ। আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ৩২ শতাংশ, আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ।

তবে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় দুই দলের ব্যবধান আরও কম। অপটার হিসেবে ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ, আর আর্জেন্টিনার ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ ইতিহাস, বর্তমান ফর্ম ও পরিসংখ্যান—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত এই সেমিফাইনালে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান প্রায় নেই বললেই চলে।





Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy