
X
খুলনা থানা
খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার কোষাধ্যক্ষ রকিবুল ইসলাম মতিসহ ছয়জন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
গত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ‘দৈনিক জন্মভূমি’ পত্রিকার পাশে জলিলের দোকানের সামনে ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
২০০৪ সালের ২৭ জুন এই ‘দৈনিক জন্মভূমি’ অফিসের সামনেই পত্রিকা সম্পাদক ও খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক হুমায়ুন কবির বালু সত্রাসীদের বোমা হামলায় নিহত হয়েছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী এক পথচারী জানান, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জলিলের দোকানের পাশে চেয়ার নিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক কাজ শেষে কথা বলেন। গতরাতেও এখানে বসে ছয়জন সাংবাদিক গল্প করছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল যোগে আসা দু’জন যুবক তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি একটি চেয়ারের পায়ে বিদ্ধ হয়।
এসএ টিভির সাংবাদিক মতি বলেন, “রাতে আমরা কয়েকজন সাংবাদিক এখানে আড্ডা দিচ্ছিলাম। দু’জন যুবক আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি চেয়ারে বিদ্ধ হয় এবং চেয়ারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ আসে।”
দৈনিক খুলনাঞ্চলের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সৈয়দ রানা কবির বলেন, “দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিটি চেয়ারে বিদ্ধ হয়। এর একটি স্পিল্টার সাংবাদিক আওয়ালের বুকে লেগে তিনি সামান্য আহত হন। তবে তিনি সুস্থ আছেন।”
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে বুলেটের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। কোনো হতাহতের খবর ঘটনা নেই। কি কারণে এখানে গুলির ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার কোষাধ্যক্ষ রকিবুল ইসলাম মতিসহ সাংবাদিকের লক্ষ্য করে দুর্বৃত্ত্বদের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে) সভাপতি সুনীল দাস, সাধারণ সম্পাদক শেখ লিয়াকত হোসেন।
সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের গুলি ছোড়ার ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড ও আর্টিকেল নাইনটিনের সহযোগিতায় গঠিত বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি (বিজেপিসি) তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সংগঠনটি বলেছে, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হয়, তাহলে দেশের সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সারাদেশে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।