
X
ফাইনালে উঠে স্পেনের ফুটবলারদের আনন্দ।
ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে আপাতত নিজেদের কাজটা সেরে রেখেছে স্পেন। এখন অপেক্ষা প্রতিপক্ষ কে হবে, সেটা জানার। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে চান স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে উড়তে থাকা ফ্রান্সকে এক ঝটকায় মাটিতে নামিয়ে আনে স্পেন। প্রথম সেমিফাইনালে ফরাসিদের ২-০ গোলে হারিয়ে দেয় তারা। চোখধাঁধানো ফুটবলে গত দুই আসরের ফাইনালিস্টদের টিকতেই দেয়নি স্প্যানিশরা।
বিশ্বকাপে এর আগে একবারই ফাইনাল খেলেছিল স্পেন, ২০১০ সালে। সেবার নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছিল তারা। ১৬ বছর পর আবারও সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে দলটি। ১৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম) এবারের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। শক্তি-সামর্থ্যে কাউকেই পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে অনুমিতভাবেই দে লা ফুয়েন্তেকে প্রশ্ন করা হয়, কাকে ফাইনালের প্রতিপক্ষ হিসেবে চান তারা?
“লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের কারণে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে আমি রোমাঞ্চিত। তবে আমি আগেই সতর্ক করেছিলাম যে, ফাইনালে ওঠার শক্তিশালী দাবিদারদের একটি ইংল্যান্ড এবং এখন তারা সেখানেই (ফাইনালের কাছে)।”
আন্তর্জাতিক ফুটবলে মুখোমুখি দেখায় আর্জেন্টিনা ও স্পেন কেউ কারো থেকে পিছিয়ে নেই। সব মিলিয়ে ১৪ বারের সাক্ষাতে ছয়টি করে ম্যাচ জিতেছে দুই দলই, বাকি দুটি ড্র। ফ্রান্স ও স্পেনের সেমি-ফাইনালকে বলা হচ্ছিল ‘ফাইনালের আগে ফাইনাল।’ তবে আটলান্টায় অনুষ্ঠেয় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের শেষ চারের লড়াইকেও কোনো অংশে কম দেখেন না দে লা ফুয়েন্তে। তার ভাষায়, ‘এই ম্যাচটি সহজেই হতে পারত বিশ্বকাপের ফাইনাল।’
“ফাইনাল ম্যাচ কেবল জেতার জন্যই খেলতে হবে, এমন ধারণায় আমি বিশ্বাসী নই। ওই মঞ্চ উপভোগ করতে হয়। আর সঙ্গে যা পাওয়া যায়, সেটা অর্জনের মুকুটে বাড়তি রত্ন।”
দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্সকে এভাবে অসহায় বানিয়ে দেবে স্পেন, কোনো জায়গা না দিয়ে আটকে রাখবে; ম্যাচের আগে কজনই বা ভেবেছিলেন। কিন্তু সেটাই করে দেখালেন রদ্রি, কুকুরেইয়া, ইয়ামালরা। তাদের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। বললেন, এই স্পেন দল তাকে প্রতিনিয়ত অবাক করে।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে যেভাবে খেলছিল ফ্রান্স, শিরোপা জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার মনে করা হচ্ছিল তাদের। কিন্তু উড়তে থাকা সেই দলকে মাটিতে নামিয়ে আনে স্পেন। আসরের প্রথম সেমি-ফাইনালে ফরাসিদের ২-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নেয় ২০১০ আসরের চ্যাম্পিয়নরা।
স্প্যানিশদের চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের সামনে কতটা কোণঠাসা ছিল ফ্রান্স, তা অবশ্য পরিসংখ্যান কিংবা স্কোরলাইনে ফুটে উঠছে তারা। যারা খেলে দেখেছে, তারাই বলতে পারবে দুই দলের খেলায় পার্থক্য কতটা বিশাল ছিল।
ম্যাচ শেষে দলকে প্রশংসায় ভাসানো দে লা ফুয়েন্তে বলেন, স্পেনের এই দলের সামর্থ্যের সীমা জানা নেই তার। “এই দল কী করতে পারে, সেটা আমাকে অবাক করে। তবে এটা বিনা মূল্যে বা কাকতালীয়ভাবে আসেনি। এর পেছনে আছে প্রতিভা, ত্যাগ ও প্রতিকূলতা জয় করার মানসিকতা। আমরা যে পরিকল্পনা করেছিলাম, তাতে জানতাম আরও উন্নতি করতে হবে। এখন আমরা দারুণ এক সময় পার করছি। খেলোয়াড়রা অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও ছন্দে রয়েছে।”
তারকা সমৃদ্ধ স্পেন দলের একাদশে সুযোগ পাওয়ার লড়াইটা প্রবল। তবে এতে খেলোয়াড়দের মধ্যে বিরূপ কোনো প্রভাব পড়ছে না। সবাই মিলে একটা লক্ষ্যের পানে ছুটে চলা এমন একটি দল পেয়ে গর্বের শেষ নেই দে লা ফুয়েন্তের। ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ী দলের তাড়না এই দলের মধ্যে দেখতে পান তিনি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সফরসঙ্গী নির্বাচন করা। আমাদের সবার লক্ষ্য একটাই। আমরা সাধারণ ও উদার মানুষ। এভাবেই একটি সফর এগিয়ে যায়। এই দলের মতো এমন দৃষ্টান্তমূলক আচরণ আমি কখনো দেখিনি। আমি গর্বিত। একটি উচ্ছ্বসিত ড্রেসিংরুম এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশ দেখতে পাই। আমরা ২০১০ সালের সেই চেতনা, মনোভাব ফিরিয়ে এনেছি। এই দলের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ হলো, যারা ম্যাচে অংশ নেয়নি তারাও ম্যাচ শেষে একই সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে থাকছে।”
ফাইনালে ওঠার আনন্দে আত্মহারা স্প্যানিশরা। সমর্থকদের শেষ পর্যন্ত পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্পেন কোচ। “আপনাদের ধন্যবাদ, কারণ আপনাদের সমর্থন আমরা অনুভব করি। এটা আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়, শক্তি সঞ্চার করে। আমি তাদেরকে বলতে চাই, সমর্থন দিয়ে যান, কারণ সামনে যে চ্যালেঞ্জ আসছে, তা আরও কঠিন।”
আগামী ২০ জুলাই মাঠে গড়াবে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল। বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম) অনুষ্ঠেয় লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা কিংবা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে স্পেন। এবারের বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি হবে আগামী ২০ জুলাই। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম) শুরু মাঠের লড়াই।