‘মেসি-রোনালদোর মতো সম্মান আনচেলত্তির কাছে পাননি নেইমার’

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলাধুলা

খেলার মাঠ থেকে বিদায় নিয়েও আলোচনার কেন্দ্রে নেইমার। ২০২৬ বিশ্বকাপে এই ফরোয়ার্ডকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে

2026-07-15T20:37:51+00:00
2026-07-15T20:37:51+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
‘মেসি-রোনালদোর মতো সম্মান আনচেলত্তির কাছে পাননি নেইমার’
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম   (ভিজিট : ৫০)
নেইমারও আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন চোখের জলে।
X

নেইমারও আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন চোখের জলে।

খেলার মাঠ থেকে বিদায় নিয়েও আলোচনার কেন্দ্রে নেইমার। ২০২৬ বিশ্বকাপে এই ফরোয়ার্ডকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে ব্রাজিলে বিতর্ক থামছেই না। এবার সেই আগুনে ঘি ঢাললেন খোদ রিও অলিম্পিকে সেলেসাওদের সোনা জেতানো কোচ রজেরিও মিকালে। তাঁর মতে, লিওনেল মেসি বা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো যে সম্মান ও বিশেষ ছাড় পাওয়ার যোগ্য ছিলেন নেইমার, তা তিনি পাননি কোচ কার্লো আনচেলত্তির কাছ থেকে।

নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর বেশ কিছুদিন পার হয়ে গেছে। নেইমারও আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন চোখের জলে। কিন্তু ব্রাজিলে এখনো মূল আলোচনার বিষয়—কেন নেইমারকে ডাগআউটে বসিয়ে রাখা হলো?

ব্রাজিলকে ইতিহাসের প্রথম অলিম্পিক সোনা এনে দেওয়া কোচ রজেরিও মিকালে স্পষ্ট ভাষায় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন সেলেসাওদের বর্তমান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তিকে। ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিকালে বলেন, নেইমারকে যেভাবে পুরো টুর্নামেন্টে সাইডলাইনে রাখা হয়েছে, তা কোনোভাবেই তাঁর বোধগম্য নয়। নেইমার পুরোপুরি ফিট না থাকলেও, শুধু তাঁর উপস্থিতিই দলের জন্য অন্যরকম এক শক্তি হতে পারত।

রজেরিও মিকালে অলিম্পিকজয়ী কোচ, ‘আমার চোখে নেইমারই ব্রাজিলের সেরা খেলোয়াড়। মাঠের ভেতরে ও বাইরে তাঁর যে প্রভাব, সেটার জন্য আনচেলত্তির উচিত ছিল নেইমারের ওপর আরও বেশি আস্থা রাখা।
 নেইমারকে কেবল সাধারণ সমর্থন দিয়েই থামেননি মিকালে, তিনি টেনে এনেছেন মেসি, রোনালদো ও মোহাম্মদ সালাহদের প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, বিশ্বমানের মহাতারকাদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনতে হলে তাঁদের জন্য বিশেষ পরিবেশ তৈরি করতে হয়, যা আনচেলত্তি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

মিশরে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে মিকালে জানান, কীভাবে সেখানে সালাহকে কেন্দ্র করে পুরো দল ও সিস্টেম সাজানো হতো। ব্রাজিলেরও উচিত ছিল নেইমারকে সেই রাজকীয় সুবিধা দেওয়া। শতভাগ ফিট না থাকলেও নেইমার শুধু তাঁর মায়াবী ফুটবল মস্তিষ্ক দিয়েই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারতেন।

মিকালের এই সমালোচনা কেবল আবেগের ওপর দাঁড়িয়ে নয়, বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানও তাঁর এই দাবিকে জোরালো করছে। এবারের বিশ্বকাপে নেইমারের খেলার সময়টা ছিল বড্ড মলিন—স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন মাত্র ১৪ মিনিট। নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে ছিলেন মাত্র ২৩ মিনিট।

শেষ ষোলোর সেই ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নেইমার পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেও, ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মনে তাই একটাই আক্ষেপ—নেইমার যদি শুরু থেকে মাঠে থাকতেন, তবে গল্পের শেষটা অন্যরকম হতে পারত।

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানো নেইমারকে নিয়ে এখনো এক বুক আশা ধরে রেখেছেন মিকালে। তিনি এমন এক বার্তা দিয়েছেন যা নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ব্রাজিলিয়ানদের। মিকালে জানান, ২০৩০ বিশ্বকাপে নেইমারকে আবার ব্রাজিলের জার্সিতে দেখতে চান তিনি।

বললেন, ‘নেইমারকে খেলতে দেখার জন্য আমি নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে টিকিট কাটতে রাজি। সে যদি শারীরিকভাবে ফিট থাকে, তবে দলে তাঁর জায়গা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠতেই পারে না।’
বাস্তবতা অবশ্য মিকালের এই আবেগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ও নিষ্ঠুর। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের কাছে হারের পর কান্নাভেজা চোখে নেইমার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছিলেন। কাকতালীয়ভাবে, ২০১০ সালে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল। যেখানে শুরু, সেখানেই শেষ।






Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy