প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৬ পিএম (ভিজিট : ৩০)

X
সংগৃহীত ছবি
ফিফা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের নামের পাশাপাশি শোনা যায় ‘থ্রি লায়ন্স’ শব্দটি। এটি শুধু একটি ডাকনাম নয়, বরং ইংরেজ ফুটবলের ঐতিহ্য, গর্ব এবং ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রতীক।
বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকের কাছে এই নামটি আজ ইংল্যান্ডের পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। ‘থ্রি লায়ন্স’ নামটি এসেছে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতীক থেকে।
১৮৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের লোগোতে তিনটি সিংহের ছবি ব্যবহার করা হয়। ১৮৭২ সালে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেও এই প্রতীক জার্সিতে ছিল।
মজার বিষয় হলো, তিন সিংহের প্রতীক ফুটবলের জন্মেরও বহু শতাব্দী আগের। এটি ইংল্যান্ডের মধ্যযুগীয় রাজাদের রাজকীয় প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং দেশের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, দ্বাদশ শতকের শুরুতে রাজা হেনরি প্রথমের রাজকীয় প্রতীকে প্রথম সিংহের ব্যবহার দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে রাজবংশীয় বিবাহ ও রাজনৈতিক জোটের মাধ্যমে আরও দুটি সিংহ যুক্ত হয়।
রাজা হেনরি দ্বিতীয়ের সময় তিনটি সিংহ ইংল্যান্ডের রাজমুকুটের প্রতীক হয়ে ওঠে। পরে কিংবদন্তি রাজা রিচার্ড প্রথম, যিনি ‘রিচার্ড দ্য লায়নহার্ট’ নামে পরিচিত, তাঁর শাসনামলে এই প্রতীক বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় এবং ইংল্যান্ডের স্থায়ী রাজকীয় প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৬৩ সালে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গঠনের সময় দেশের ঐতিহাসিক ও রাজকীয় ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই তিন সিংহের প্রতীক গ্রহণ করা হয়। এরপর থেকেই এটি ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বর্তমানে ‘থ্রি লায়ন্স’ শুধু একটি ফুটবল দলের নাম নয়। এটি ইংল্যান্ডের ফুটবল সংস্কৃতি, সমর্থকদের আবেগ এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের স্বপ্নের প্রতীক। স্টেডিয়ামে সমর্থকদের কণ্ঠে এই নামই সবচেয়ে বেশি ধ্বনিত হয়।
১৯৯৬ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ উপলক্ষে মুক্তি পায় বিখ্যাত ‘থ্রি লায়ন্স’ গানটি। ডেভিড ব্যাডিয়েল, ফ্র্যাঙ্ক স্কিনার এবং ব্যান্ড ‘দ্য লাইটনিং সিডস’-এর ইয়ান ব্রুডি গানটি লেখেন। গানটি ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের হতাশা, আশা এবং স্বপ্নকে একসঙ্গে তুলে ধরে।