গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক নারী বন্দি পালানোর ঘটনায় শুক্রবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন মেট্রন ও চার মহিলা কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্তরা হলেন মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ বলেন, নারী বন্দি পলায়ন ঘটনা তদন্তে শুক্রবার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
‘দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ায় ভিত্তিতে ওই সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
কারাগার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রায় কয়েকজন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। এক পর্যায়ে রিম্পা (২১) কারাগারের অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান।
পলাতক রিম্পা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর এলাকার মো. হাসানের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। গত ৯ জুলাই আদালত থেকে এ কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
পলায়ন ঘটনার পরপরই কারা কর্তৃপক্ষ পুরো কারাগারে তল্লাশি চালালেও রিম্পার কোনো সন্ধান পায়নি। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন।
এআইজি মো. জান্নাতুল ফরহাদ জানান, ঘটনার পর কোনাবাড়ি থানায় মামলা হয়েছে। পলাতক বন্দিকে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এতো নিরাপত্তার মধ্যেও একজন বন্দি কারাগার থেকে কিভাবে পালালো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।