বড় বাজার জাপানে বাড়ছে না রপ্তানি

অনলাইন ডেস্ক

অর্থ-বানিজ্য

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারলেও আরেক

2026-07-18T21:05:48+00:00
2026-07-18T21:05:48+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
বড় বাজার জাপানে বাড়ছে না রপ্তানি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৫ পিএম   (ভিজিট : ৩৬)
প্রতীকী ছবি
X

প্রতীকী ছবি

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারলেও আরেক বড় বাজার জাপানে মোটেই ভালো করতে পারছে না। 

জাপানে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশের আয় এগারো বছর ধরে এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলারের মধ্যেই আটকে আছে। এমনকি জাপানের সঙ্গে বহুল প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) পরও রপ্তানি বাড়ছে না; উল্টো কমেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাপানে ১৩৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম। আর রপ্তানির ওই পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ কম। গেল অর্থবছর জাপানে পণ্য রপ্তানি করে পাওয়া ১৩৬ কোটি ডলারের মধ্যে ১১৬ কোটি ডলারই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে আয়ের অংক ছিল ১৪১ কোটি ১৬ লাখ (১.৪১ বিলিয়ন) ডলার। আর ২০২৫-২৬ আর্থবছরে জাপানে পণ্য রপ্তানি করে ১৬৭ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরেছিল অন্তবর্তী সরকার। বাংলাদেশের ইতিহাসে জাপানে পণ্য রপ্তানি থেকে সবচেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা এসেছিল ২০২২-২৩ অর্থবছরে। ওই আর্থবছরে জাপানে ১৪৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ১২৫ কোটি ডলারই এসেছিল তৈরি পোশাক থেকে।

বিভিন্ন সময়ে সরকার ও রপ্তানিকারকদের পক্ষ থেকে জাপানে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্খিত সুফল মেলেনি। অথচ এ বাজারে তৈরি পোশাকেরই চাহিদা রয়েছে ২৫ বিলিয়ন ডলারের মত। এর মাত্র ৫ শতাংশের মত রপ্তানি করতে পারেন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা। বিশ্বের অন্যান্য বাজারের মত জাপানে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে পারলে বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশ অবস্থান আরও মজবুত হত। বিগত অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস গত বছর মে মাসে জাপান সফর করেন। ওই সফরে রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করে বাংলাদেশ। কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এ ধরনের চুক্তি এটাই প্রথম।

বাংলাদেশের তখনকার বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও টোকিওতে ওই চুক্তি সই করেছিলেন। ইপিএর ফলে জাপানের বাজারে ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্যের শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তারপরও সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে না। অথচ দেশ হিসাবে সবচেয়ে বেশি ঋণ-সহায়তা আসে জাপান থেকেই।

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর দিকে যতটা নজর দিয়েছি, বড় মার্কেট হওয়ার পরও জাপানের দিকে তেমন মনোযোগ দিইনি। এতে সরকারের দিক থেকে যেমন ব্যর্থতা আছে, আমাদের রপ্তানিকারকদের দিক থেকেও আছে। সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে জাপানে আমাদের রপ্তানি অবশ্যই বাড়ত; সেটা ৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছানো যেত; কিন্তু আমরা দেড় বিলিয়ন ডলারও ছাড়াতে পারিনি।”


“অনেকে বলেন, জাপানিরা বেশি দামের পোশাক ব্যবহার করে; এ ধারণা ঠিক নয়। তারা এখন কম দামি পোশাকও কেনে। মোদ্দা কথা হল, তাদের চাহিদা ও পছন্দের পোশাক রপ্তানি করতে হবে। তাহলে রপ্তানি বাড়বে।”

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “জাপানের ফ্যাশন অগ্রগামী এবং মান সচেতন বাজার যদি আমরা ধরতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য নতুন পথ খুলতে পারে।”

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আগে থেকেই শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত, সেটা ঠিক। কিন্তু সেবা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে ইপিএর আলাদা গুরুত্ব থাকছেই। “আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা এতদিন জাপানের বাজার ভালোভাবে ধরতে পারিনি। এখন এই বাজারের দিকে নজর দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ইপিএর যথাযথ ব্যবহার করতে হবে।”

এখন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্য সিঙ্গেল-স্টেজ ট্রান্সফরমেশন রুলস অব অরিজিন অনুসরণ করেই রপ্তানি করা যাবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশে যে কোনো একটি উৎপাদনের ধাপ সম্পন্ন হলেই ওই তৈরি পোশাক জাপানের বাজারে রপ্তানি করা যাবে। আমাদের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য এটা একটা বড় সুবিধা।”

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাপান ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও বর্তমানে খুব অল্প পণ্যই সেখানে রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশকে এর পুরো সুবিধা পেতে হলে নিজস্ব সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানো, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শক্তিশালী করা জরুরি।” প্রায় সাড়ে ১২ কোটি মানুষের দেশ জাপানে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ নিতে হবে সরকার ও রপ্তানিকারকদের সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন। “আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাপানে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। আর সেজন্য যা যা করা দরকার তা সরকার ও বেসরকারি খাত মিলে করতে হবে।” নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গড়ে ওঠা জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরেও রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা যেতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতির এই বিশ্লেষক।





Loading...
Loading...


অর্থ-বানিজ্য এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy