
X
: সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
প্রতিদিনই আঙুলে ব্যথা অনুভব করছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ মেনে অস্ত্রোপচারের টেবিলে যেতে মন সায় দিচ্ছে না। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের প্রস্তুতিও এই আর্জেন্টাইন গোলকিপার নিচ্ছেন, আঙুলের ব্যথা সহ্য করে।
নিউ ইয়র্কে ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারসাবালদের আক্রমণের ঝড় সামলে আর্জেন্টিনার পোস্ট আগলে রাখার দায়িত্ব থাকবে মার্তিনেসের কাঁধে।
চার বছর আগে, কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পোস্ট দারুণ বিশ্বস্ততায় আগলে রেখেছিলেন মার্তিনেস। ফাইনালে বেশ কিছু দুর্দান্ত সেভের পর, টাইব্রেকারে ফ্রান্সের কিংসলে কুমানের শট আটকে দিয়েছিলেন ৩৩ বছর বয়সি এই গোলকিপার।
স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে লুসাইলের সেই মহাকাব্যিক ম্যাচের দিকেও ফিরে তাকালেন, সেবার গোল্ডেন গ্লাভস জেতা মার্তিনেস,‘ আমরা যা অর্জন করেছি, তা ভেবে মাঝেমাঝে আমি একাকী কাঁদি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এই মুহূর্তটা উপভোগ করা। কেননা, এগুলোই আজীবন আমাদের সাথে থাকবে।’
গত মৌসুমের শেষ দিকে আঙুরে চোট পান মার্তিনেস। বিশ্বকাপের আগে প্রীতি ম্যাচে এর জন্য খেলতে পারেননি তিনি। ওই চোট থেকে পাওয়া ব্যথা নিয়েই খেলে যাচ্ছেন তিনি। গোলকিপারদের কষ্ট বোঝাতে গিয়ে তিনি বাবা-মায়েদের দিলেন অন্যরকম পরামর্শও। তিনি বলেন,‘ এটা (আঙুলের ব্যথা) প্রতিদিনই কষ্ট দেয়। আমি অস্ত্রোপচার এড়িয়ে চলি। ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র-সবখানেই বিশেষজ্ঞরা আমাকে অস্ত্রোপচারের কথা বলেৃআমি দলের সাথে প্রথম ধাপে অনুশীলন করতে পারি না। অবশ্য গ্রুপ পর্বের পর থেকে ভালো অনুভব করছি। বাবা-মায়েদের কাছে আমরা চাওয়া, তাদের সন্তান যেন ফরোয়ার্ড হয়, গোলকিপার না হয়।’
ফাইনালে বিজয়ীর হাসি কার বা কাদের মুখে থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে, এমিলিয়ানো মার্তিনেসের বিশ্বাস, তার মুখেই ফুটবে সাফল্যের হাসি এবং সেটা দেখবে সবাই। এমন আত্মবিশ্বাসের কারণ, মাঝের চার বছরে তিনি হয়েছেন আরও পরিণত ও নির্ভরযোগ্য।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে আর্জেন্টিনা। দলের লক্ষ্যপূরণে পোস্ট আগলে রাখার গুরুভার থাকবে মার্তিনেসের কাঁধে। ছয় ফুট পাঁচ ইঞ্চি লম্বা এই গোলকিপার প্রস্তুত দায়িত্ব বয়ে নেওয়ার।
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে, বিশেষ করে ফাইনালের প্রয়োজনীয় সময়ে সেরাটা মেলে ধরেছিলেন মার্তিনেস। ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে কিংসলে কোমানের শট আটকে দলের জয়ের নায়কদের একজন ছিলেন তিনি। সেবার বিশ্বকাপের শুরুতে অবশ্য তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল মার্তিনেসের। সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরে বসেছিল আর্জেন্টিনা। দুটি গোল হজম করেছিলেন মার্তিনেস।
সেই ম্যাচের দিকেও পিছু ফিরে তাকালেন তিনি। তবে, আত্মবিশ্বাস ভরা কণ্ঠে বললেন, নিউ ইয়র্কে হাসবেন তিনিই। গতবারের চেয়ে এবারের বিশ্বকাপ আমি অনেক বেশি উপভোগ করছি। সেবার সৌদি আরবের বিপক্ষে ভীষণ ভুগেছিলাম। খুব বেশি শট মোকাবিলা করতে পারিনি এবং প্রতিপক্ষরা গোল করেছিল। কাতার বিশ্বকাপে আমি কেবল পেনাল্টি শুটআউটে নির্ণায়ক ভূমিকা রেখেছিলাম। আমি মনে করি, তখনকার চেয়ে আমি এখন আরও ভালো খেলোয়াড়। রোববার ফাইনালের জন্য আমি প্রস্তুত এবং আপনারা আমাকে হাসতে দেখবেন।”