প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৩১ পিএম (ভিজিট : ৩৬)

X
ছবি: প্রতিনিধি
নদী মাতৃক বাংলাদেশে জালের মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নদী ও খাল যেন এখন রূপকথার গল্প। এক সময়ের গোলা ভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছের গল্প এখন সোনালী অতীত। তাইতো বর্ষার ভরা মৌসুমেও কোন খালে নেই এক হাটু পানি। তাই সোনালী আঁশ পাট কাটার ভরা মৌসূমে পাট পচানোর খাল আর পানির অভাবে বিপাকে পরেছে চাষিরা।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিস সূত্রে জানা গেছে- এবছর ঈশ্বরদী উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা ছিলো ৩৫৯ হেক্টর। কিন্তু গেল বছর প্রত্যাশার চাইতেও ভালো বাজার দর পাওয়ায় এ বছর কৃষক পর্যায়ে পাটের চাষ বেড়ে হয়েছে ৩৬৫ হেক্টর। এছাড়াও কৃষকদের পাট চাষে উদ্বূদ্ধ করতে কৃষি অফিস থেকে বিনা মূল্যে পাটের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে সাধারণত তোষা ও দেশী (সাদা) এই ২ জাতের পাটের চাষ হয় সবচেয়ে বেশী । বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) বর্তমানে অনেক উচ্চ ফলনশীল পাটের নতুন জাত উদ্ভাবন করলেও বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী চাষ হয় তোষা জাতের পাট। যা শতকরা ৮০% শতাংশ বলেও জানা গেছে।
উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারী এলাকার পাটচাষী মো: খোরশেদ আলম জানান, এবছর তোষা জাতের পাট বুনেছিলাম ১০ বিঘা জমিতে। কাটার সময় হয়েছে। ৪ বিঘার মত কেটেছিও। কিন্তু সেগুলো পচানোর (জাগ দেওয়া) মত জায়গা পাচ্ছি না। পাট নিয়ে বড্ড বিপাকে আছি।
অরণকোলার কৃষক আব্দুল কলিম বলেন, আগে যেখানে সেখানে পচা ডোবা পাওয়া যেত যেখানে এলাকার মানুষ পাট জাগ দিতো। কিন্তু এখন সবাই পুকুর খনন করে ফেলায় পাট জাগ দেয়ার জায়গা নাই। পাট এখন আমাদের গলার কাটা।
দিন মজুর আব্দুল কুদ্দুস বলেন, পাট কাটার পর জমিতেই পাতা ঝড়ানোর জন্য একত্রে পালা করে (স্তুপ আকারে) কয়েকদিন রাখা হয়। তারপর পাতা ঝড়ে গেলে সেই পাট পনিতে ডুবিয়ে রাখতে হয়। কিন্তু আমরা পাট কেটে জমিতে পালা করে (স্তুপ করে। রেখেছি। জাগ দেওয়ার পানি না পেয়ে জমিতেই নষ্ট হওয়ার মত হয়েযাচ্ছে পাট। গাড়িতে করে এখানে সেখানে ছুটছি। কিন্তু কেউ জায়গা দিচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, এবছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশী পাটের চাষ হয়েছে। সঠিক বাজার মূল্য পেলে কৃষকরা লাভবান হবে। পাটচাষে কৃষকদে উদ্বুদ্ধ করতে এবছর আমরা ১০০ জন কৃষককে উন্নত জাতের পাটের বীজ ও সার দিয়েছি।
আবহাওয়া অনুকূল থাকায় পাটের বাম্পার ফলনের আশা করছি। মাছ চাষের পুকুরে পাট পচানো সম্ভব না। তাই কৃষকদের বাড়ির আশ পাশের মজা পুকুরকে পাট পচানোর কাজে ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও সরকারের খনন কৃত খাল গুলোও হতে পারে পাট পচানোর আদর্শ জায়গা। তিনি এই খাল গুলোকে বেছে নিতে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন।