
X
পাবলো আইমার, লিওনেল স্কালোনি,ওয়াল্টার সামুয়েল মভা রবার্তো আয়ালা
ফুটবল ম্যাচ শেষে স্কোরবোর্ডে কী লেখা থাকল, কোন দল কত পয়েন্ট পেল- পেশাদার ফুটবলে দিনশেষে এটাই নাকি শেষ কথা। কিন্তু বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ডাগআউটে যারা বসেন, তাদের দর্শনটা একটু ভিন্ন। সেখানে ট্যাকটিক্যাল বোর্ডের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে মানুষের মধ্যে সম্পর্ক, আর পেশাদারিত্বের চেয়েও দামি হয়ে ওঠে নিখাদ বন্ধুত্ব। লিওনেল স্কালোনি, পাবলো আইমার, রবার্তো আয়ালা আর ওয়াল্টার সামুয়েল- এই চার বন্ধুর চেনা রসায়নেই যেন মাঠের পর মাঠ মাতিয়ে বেড়াচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা।
২০১৮ সালে জোর্হে সাম্পাওলির বিদায়ের পর যখন আর্জেন্টিনা ফুটবল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নিয়ে হাল ধরেছিলেন লিওনেল স্কালোনি। তার ছায়াসঙ্গী (সহকারী কোচ) বাকি তিন বন্ধু।
এই চার বন্ধুর হাত ধরেই বদলে গেছে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাস। ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে এই ডাগআউটের জাদুতে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যেই জিতেছে দুটি কোপা আমেরিকা, একটি ফিনালিসিমা এবং কাতার বিশ্বকাপের সেই মহাকাব্যিক ট্রফি। আর রোববার রাতের ফাইনাল, উত্তর আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে তারা আরও একটি বিশ্বকাপ জয়ের সম্মুখে, যেখানে ইতিহাস গড়ার হাতছানি।
বিশ্বকাপে আলজেরিয়া ম্যাচের পর ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রধান সহকারী কোচ পাবলো আইমার। আর সেখানেই উঠে এসেছে টেকনিক-ট্যাকটিকসের পাশাপাশি তাঁদের চার বন্ধুর ডাগআউটের ভেতরের গল্প।
স্কালোনির অবিশ্বাস্য সাফল্যের মূল চাবিকাঠি কী? কর্দোবায় জন্ম নেওয়া এই ফুটবল কিংবদন্তি কোনো লুকোছাপা না করেই জানালেন প্রধান কোচের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা। আইমারের ভাষায়, ‘স্কালোনি শুধু একটা দারুণ দলই গড়েননি, এমন এক ঝাঁক মানুষকে একত্র করেছেন যারা সবাই একই লক্ষ্যের দিকে ছুটছে। এটা অর্জন করা খুবই কঠিন। আর ওর সবচেয়ে বড় গুণ হলো— ও সবার মাঝে আত্মবিশ্বাস আর মানসিক শান্তি ছড়িয়ে দিতে পারে, যা এই স্তরের ফুটবলে করাটা ভীষণ কঠিন।’
বিশ্বকাপের পাশাপাশি বন্ধুত্বটাও বেশ উপভোগ করছেন আইমাররা। বললেন, ‘আমরা শুধু চারজন সহকর্মী নই, আমরা বন্ধু। আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পেরে আনন্দিত। ফুটবল মাঠের ফল যেকোনো দিকে যেতে পারে, কিন্তু এই যে ৪০টা দিন আমরা একসঙ্গে জীবন কাটাচ্ছি, এর পরিবেশটা সুন্দর হওয়া জরুরি। তা না হলে জীবনের এই দিনগুলোই বৃথা মনে হবে।’
এই একলাইনেই আসলে লুকিয়ে আছে স্কালোনিস্তাদের ড্রেসিংরুমের আসল রহস্য। মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে আয়ালা, সামুয়েল ও আইমারদের এই যে গভীর মেলবন্ধন, এটাই পুরো দলের পরিবেশকে করে তুলেছে চনমনে।
অথচ খেলোয়াড় হিসেবে এই আইমার, আয়ালা বা সামুয়েলদের বিশ্বকাপ লড়ায়ের স্মৃতিগুলো মোটেও মধুর নয়। ২০০২ বা ২০০৬ বিশ্বকাপে সোনালী প্রজন্ম নিয়েও তাঁদের ফিরতে হয়েছিল খালি হাতে। নিজের খেলোয়াড়ী জীবনের সেই দিনগুলোর কথা মনে করে আইমার কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, ‘ফুটবলার হিসেবে আমরা বিশ্বকাপে খেলেছি কিন্তু জিততে পারিনি। তাই সেই স্মৃতিগুলোর কিছু আনন্দের, কিছু বেদনার। তবে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলতে পারা, টিভির পর্দায় দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারার অনুভূতি সব সময়ই স্পেশাল।’
খেলোয়াড় হিসেবে যা পারেননি, কোচ হিসেবে ডাগআউটে বসে দিয়েগো ম্যারাডোনার উত্তরসূরিদের সেটাই এনে দিয়েছেন এই চার বন্ধু। ট্রফি ক্যাবিনেটে একটা বিশ্বকাপ তো যুক্ত হয়েছেই, এবার আরেকটি ট্রফি সাজানোর সুযোগ আলবিসেলেস্তেদের।