
X
দলের সঙ্গে ট্রফি হাতে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বিষয়টি অনেকবারই বলেছেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে। বিশ্বকাপ জয়ের পরও তার কণ্ঠে ঝরেছে একই কথা। স্পেন কোচ মন করছেন, এই একতাই তাদেরকে এনে দিয়েছে সবচেয়ে বড় সাফল্য।
নিউ ইয়র্কে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে শিরোপা উল্লাস করে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচটি ১-০ গোলে জেতে ২০১০ আসরের চ্যাম্পিয়নরা। ব্যবধান গড়ে দেয়া গোলটি করেন ফেররান তরেস। ২০১০ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠে বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। ১৬ বছর পর ফাইনালে ফিরে ফের বাজিমাত করল তারা।
৬৫ বছর বয়সে স্পেনকে জেতালেন দে লা ফুয়েন্তে। বিশ্বকাপ জেতা সবচেয়ে বয়স্ক কোচ এখন তিনি। তার কোচিংয়ে ২০২৪ ইউরো জিতেছিল স্প্যানিশরা। দে লা ফুয়েন্তের সময়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৮ ম্যাচ ধরে অপরাজিত দলটি। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দলের নেই এমন কীর্তি।
বিশ্বকাপের মাঝে দে লা ফুয়েন্তে দলের ফুটবলারদের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘তারা সবাই ভালো মনের মানুষ।’ বিশ্ব জয়ের পর আরও এবার স্তুতিতে ভাসালেন তিনি দলের সবাইকে। “অতীতে মানুষ ফুটবলাররা প্রতিভাবান ও দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হলে অবাক হতো। আমরা সবচেয়ে ঐক্যবদ্ধ দল। আর এটার পুরো কৃতিত্ব ওই মানুষগুলোর, যাদের মধ্যে পারস্পরিক সংহতি ও মূল্যবোধ আছে।”
স্পেনের এই দলের একের পর এক সাফল্য মন ছুঁয়ে গেছে দে লা ফুয়েন্তের। তবে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে তার, দলটির সবার মধ্যে থাকা একই দর্শনের বিষয়টি। আমি এই প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে ভীষণ গর্বিত। তারা এই দর্শনের (ঐক্য) মধ্যেই বেড়ে উঠেছে, সেটিতে আস্থা রেখেছে, আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং দল ও পরিবারের মতো একতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা অসাধারণ প্রতিভাবান এবং বিশ্বমানের ফুটবলার।
“আমি খুবই আবেগাপ্লুত। পেছনে তাকিয়ে তাদের কথা ভাবলে মনে হয়, এই প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা সবকিছুই জিতেছি, একেবারে সবকিছু।”
শর্ত পূরণ হয়ে গেছে, এবার মার্ক কুকুরেইয়ার কথা রাখার পালা। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের আশা, কথা রাখবেন বিশ্বকাপ জয়ী ডিফেন্ডার।
ফাইনালের আগে কুকুরেইয়া বলেন, বিশ্বকাপ জিতে গেলে জাতীয় দল থেকে অবসর নেবেন তিনি এবং নিজের বাইসেপে আঁকাবেন কোচের ট্যাটু। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। সংবাদ সম্মেলনে অবসরের প্রসঙ্গে কিছু না বললেও কুকুরেইয়াকে ট্যাটুর কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন কোচ দে লা ফুয়েন্ত।
“ট্যাটু করানোর জন্য আমার বয়স অনেক বেশি। তবে আমি জানি, আমার খেলোয়াড়রা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার মতো মানুষ। তারা একটা ভুল করেছে এবং তাদের সেটা পালন করতে হবে। আমি দেখতে এতটাও খারাপ নই।”
২০২৪ ইউরো জিতিয়েছিলেন দে লা ফুয়েন্তে, এবার দলকে বিশ্বকাপে এনে দিলেন দ্বিতীয় শিরোপা। কুকুরেইয়ার শরীরের কোথায় নিজের মুখের ট্যাটু দেখতে চান সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিলেন স্পেন কোচ। সম্ভবত শরীরের এমন কোনো জায়গায় যেটা দৃশ্যমান নয়। তবে যখন আপনি কিছু একটা বলবেন, তখন সেটা আপনার করতেই হবে।”