সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবের ওপর ‘সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা’ জারির ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র রাজনৈতি গোষ্ঠী হুথি। গতকাল গোষ্ঠীটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন,

2026-07-21T12:27:33+00:00
2026-07-21T12:27:33+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল ইয়েমেনি হুথি গোষ্ঠী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম   (ভিজিট : ৩০)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবের ওপর ‘সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা’ জারির ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনভিত্তিক সশস্ত্র রাজনৈতি গোষ্ঠী হুথি। গতকাল গোষ্ঠীটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন থেকে লোহিত সাগর কিংবা এই সাগরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে কোনো সৌদি জাহাজ বা নৌযান দেখামাত্র সেটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

ওই মুখপাত্র অবশ্য এই নিষেধজ্ঞা সম্পর্কে বেশি বিস্তারিত তথ্য দেননি, তবে গতকাল হুথি গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত একটি ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এখন থেকে লোহিত সাগর এবং এ সাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রবেশপথ নামে পরিচিত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদির কোনো জাহাজ বা নৌযান দেখলেই সেটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে হুথি গোষ্ঠী।

তিনি আরও জানান, সৌদি আরব হুথি নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের সামুদ্রিক বন্দর এবং বিমানবন্দর অবরোধ করে রেখেছে। তার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে হুথি হাইকমান্ড।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা জারির পর সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুথি গোষ্ঠীর এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “লোহিত সাগরে নিজেদের জাহাজ-নৌযান রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে সবধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে রিয়াদ।”

সৌদি আরবের বৈদেশিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পণ্য রপ্তানির জন্য লোহিত সাগর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবরোধ জারির পর জ্বালানি তেল রপ্তানির জন্য লোহিত সাগরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে সৌদির কাছে।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবকে নিজেদের এক নম্বর বা শীর্ষ পর্যায়ের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে হুথি গোষ্ঠী। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তারপর মাত্র এক বছরের মধ্যে  ২০১৫ সালে হুথি গোষ্ঠী রাজধানী সানা দখল করে। হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি সেনাবাহিনী। সে অভিযান এখনও চলছে।

বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে সেই প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। সৌদি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি না থাকলে পুরো ইয়েমেন হুথিরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।

বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে সেই প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। সৌদি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি না থাকলে পুরো ইয়েমেন হুথিরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত।

তবে পরস্পরের প্রতি ব্যাপক বৈরী মনোভাব থাকা সত্ত্বেও ২০২২ সালে এক অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে যায় সৌদি আরব এবং হুথি গোষ্ঠী। তারপর থেকে উভয়পক্ষ মোটা দাগে যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও গত সপ্তাহে সানার বিমান বন্দরের রানওয়েতে হামলা এবং সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার সেই হামলার দায় স্বীকার করার পর থেকে ফের উত্তেজনা বেড়েছে সৌদি এবং হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে।





Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy