
X
গাভির ওপর চড়াও হওয়ার পর লাল কার্ড দেখেন পারেদেস।
বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে স্পেনের কয়েকজন ফুটবলারের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও কোচদের মারামারির ঘটনায় অবশেষে ফিফার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা গেল। ওই ঘটনার শাস্তিমূলক তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
নিউ জার্সিতে ফাইনালে ১০৬তম মিনিটে ফেররান তরেসের গোলে দ্বিতীবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় স্পেন। তবে ফাইনাল শেষে মাঠের ভেতরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আড়াল করে দেয় ফুটবলীয় লড়াইয়ের অনেক কিছুকেই।
ফাইনালে সেদিন স্পেনের ছন্দময় ফুটবল ও বল ধরে রেখে খেলার সামনে অসহায় ছিল আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দলের বেশ কজন ফুটবলারকে মাঠে মেজাজ হারাতে দেখা গেছে। এন্সো ফের্নান্দেস তো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠই ছাড়েন। এছাড়াও হলুদ কার্ড দেখেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, আলেক্সিস মাক আলিস্তের, লিসান্দ্রো মার্তিনেসরা।
ম্যাচের পরের ঘটনা অবশ্য ছাপিয়ে গেছে সবকিছুতেই। স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভিকে যেভাবে আক্রমণ করেন লেয়ান্দ্রো পারেদেস, তা বলা যায় নজিরবিহীন। এছাড়া নাউয়েল মলিনাকেও দেখা যায় সেখানে সংঘর্ষে জড়াতে। চড়াও হন তিনি রদ্রির ওপরও। এমনকি আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ ও সাবেক অধিনায়ক রবের্তো আয়ালাকে দেখা যায় দানি ওলমোকে আঘাত করতে।
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ও অন্য কয়েকজন ফুটবলার পরিস্থিতি শান্ত করতে ছুটে আসেন। ফিফা এখন নিশ্চিত করেছে যে, পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তারা একটি শাস্তিমূলক পর্যালোচনা শুরু করেছে। “স্পেন ও আর্জেন্টিনার ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রাসঙ্গিক ম্যাচ প্রতিবেদনগুলো মূল্যায়নের পর এবং ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোড (এফডিসি)-এর ৩৬ নং ধারা অনুসারে, ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটি ম্যাচ পরবর্তী ঘটনাগুলোর বিষয়ে এফডিসির সম্ভাব্য লঙ্ঘন তদন্ত করার জন্য একজন ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে।
প্রসিকিউটরের প্রতিবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটির পক্ষ থেকে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।”
তদন্ত শেষ করার জন্য কোনো সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। ম্যাচে মাত্র একটি হলেও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে একতরফা ফাইনালগুলোর একটি ছিল এটি। ১২০ মিনিটেও গোলে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ম্যাচের রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ পারদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। এর আগে মূল খেলার শেষ দিকে তিনি এনজো ফার্নান্দেজকেও লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার আরও তিন খেলোয়াড় এবং প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিকে হলুদ কার্ড দেখতে হয়।
তদন্ত শুরুর কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে ফিফা জানিয়েছে, ‘স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচের রিপোর্ট পর্যালোচনার পর ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের (এফডিসি) ৩৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। ম্যাচ শেষে ঘটে যাওয়া এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সম্ভাব্য শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।’
রোববারের এই বিশৃঙ্খল কাণ্ডের পর পারদেস ও আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনো ফুটবলার বা ঘটনার উল্লেখ করা হয়নি।
ফাইনাল ছাড়াও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর আর্জেন্টিনার উদযাপনের বিষয়টি নিয়েও তদন্ত করছে ফিফা। সে সময় গ্যালারি থেকে সমর্থকদের দেওয়া ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার) লেখা একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে উদযাপন করেছিলেন স্কালোনির শিষ্যরা।
খেলার মাঠে বা খেলোয়াড়দের মাধ্যমে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া ফিফার নিয়মে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফলে এই ঘটনার সাথে জড়িত খেলোয়াড়দের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।