প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৬ পিএম (ভিজিট : ৫২)

X
মালয়েশিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল
জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে দেশ ছেড়েছিলেন ২০১৮ সালে। কিন্তু প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও হারিয়ে যেতে দেননি শৈশবের ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন। ইচ্ছা আর পরিশ্রমের ওপর ভর করে বাংলাদেশের নাজমুস সাকিব আজ ঠাঁই করে নিয়েছেন মালয়েশিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলে।
পিতৃহীন সাকিবের (২৬) বাড়ি খুলনার রূপসায়। কাজ করেন মালয়েশিয়ার নেগেরি সিমবিলান প্রদেশের ‘সিলিফোকাস এসডিএন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে। কাজের ফাঁকে নিয়মিত টেপ টেনিস ক্রিকেট খেলতেন তিনি। সেখান থেকেই পরিচয় ঘটে মালয়েশিয়া জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে।
তারপর প্রবাসে থাকা দুই শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় সুযোগ পান মালয়েশিয়ার ক্রিকেট ক্লাব ‘এসএসএফ প্যান্থারস’-এ। ক্লাবটিতে নিজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে স্থানীয় নির্বাচকদের নজর কাড়েন এ উইকেটকিপার ব্যাটার।
ঘরোয়া ক্রিকেটে টানা তিন বছরের ধারাবাহিক নৈপুণ্যের পর ডাক পান মালয়েশিয়া ‘এ’ দলে। সেখানেও নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেন, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৫০ বলে ১২২ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলে নির্বাচকদের দৃষ্টি কাড়েন তিনি।
ধারাবাহিক এই সাফল্যের ফল হিসেবে আসে আন্তর্জাতিক ডাক। ওমানে অনুষ্ঠিত ‘এসিসি মেনস প্রিমিয়ার কাপ’ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের দলে অন্তর্ভুক্ত হন সাকিব।
তারপর গত ৮ জুন শুরু হওয়া ৫০ ওভারের ‘এসিসি মেনস চ্যালেঞ্জ কাপ’-এ মালয়েশিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে সাকিবের আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটে।
অভিষেক টুর্নামেন্টেই চমক দেখান সাকিব। থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে মাত্র ২৫ বলে ৫৭ রানের এক ইনিংস খেলে দলকে তোলেন ফাইনালে। পরবর্তীতে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপাও জিতেছে মালয়েশিয়া।
নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও স্বপ্নের কথা জানিয়ে নাজমুস সাকিব বলেন, “আমার মূল লক্ষ্য মালয়েশিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলকে আগামীতে বিশ্বকাপে দেখা। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে মালয়েশিয়াকে সেরা ২০-এর মধ্যে নিয়ে আসতে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে চাই। মালয়েশিয়ার হয়ে অবদান রেখে নিজের মাতৃভূমি বাংলাদেশকে গর্বিত করাই আমার মূল উদ্দেশ্য।”