
X
সংগৃহীত ছবি
স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারার তীব্র হতাশার পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো এমি মার্টিনেজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় ৩৩ বছর বয়সি এই গোলরক্ষক জানিয়েছেন, এখন তাকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
কাতার বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক নিউ জার্সিতে রবিবারের ফাইনালে শেষ বাঁশি বাজার পর ভেঙে পড়েন। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন চূর্ণ হয়েছে আর্জেন্টিনার। ফাইনালের সেই হতাশার পর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় অবসরের ইঙ্গিত দেন অ্যাস্টন ভিলার এই গোলরক্ষক। লিখেছেন, ‘আমি আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলাম। ট্রফিটা আবার আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে এনে নতুন ইতিহাস গড়তে চেয়েছিলাম।’
ফাইনাল হারার বেদনা প্রকাশ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘সত্যি বলতে, এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এখন আমাকে অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে হবে, সামনে কীভাবে এগুবো তা ঠিক করতে হবে এবং এটাই সরে দাঁড়ানোর সময় কি না, তা ভাবছি।’
দেশের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি, ‘আমি সত্যিই দুঃখিত। আমার দেশ ও সতীর্থদের সাহায্য করতে আমি আমার সবটুকুই উজাড় করে দিয়েছি।’
ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি খেলেন আর্জেন্টিনার তারকা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে অসাধারণ সব সেভ করেও অতিরিক্ত সময়ে তোরেসের লক্ষ্যভেদ ঠেকাতে পারেননি তিনি। শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার তীব্র বেদনায় এবার জাতীয় দল থেকে নিজের সরে দাঁড়ানোর আশঙ্কার কথা জানালেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
সোমবারে বুয়েনস আইরেসে বৃষ্টি ও তীব্র শীত উপেক্ষা করে আসা হাজার হাজার ভক্তের উষ্ণ সংবর্ধনা পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন ও হৃদয়স্পর্শী বার্তা পোস্ট করেন মার্র্টিনেজ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি আবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলাম, ট্রফিটা আর্জেন্টিনায় ফিরিয়ে এনে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম।’
জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ পথচলার পর সবাইকে চমকে দিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার কথা প্রকাশ করেন মার্টিনেজ। তিনি লেখেন, ‘সত্যি বলতে, এই কষ্টের কথা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। অনেক বিষয় নিয়ে পুনরায় ভাবার সময় এসেছে; কীভাবে সামনে এগিয়ে যাব কিংবা এবার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে কি না; তা ভেবে দেখতে হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে রৌপ্য পদকে চুমু খাওয়ার ছবি ও অশ্রুসজল মুহূর্ত শেয়ার করে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে এই ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার তারকা লেখেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। দেশ ও আমার সতীর্থদের সাহায্য করার জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’
দল রানার্সআপ হলেও পুরো আসরে, বিশেষ করে ফাইনালে পোস্টের নিচে একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মার্টিনেজ। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে একাই ১১টি নিশ্চিত গোল বাঁচান তিনি; যা ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর যেকোনো ফাইনাল ম্যাচে কোনো গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ সেভ করার রেকর্ড। তিনি ১৯৯৪ সালে ইতালির জিয়ানলুকা পালিউকা এবং ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার উইবালদো ফিলোলকে (উভয়ের ৮টি করে সেভ) পেছনে ফেলে শীর্ষ স্থানটি নিজের করে নেন। পুরো আসরে ২০টি সেভ করে সর্বোচ্চ সেভকারীদের তালিকায় যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে টুর্নামেন্ট শেষ করেন তিনি।
২০২১ সালের জুনে অভিষেকের পর থেকে লিওনেল মেসিদের আস্থা ও দলের মূল প্রেরণার অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছিলেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। বর্তমানে ক্লাবের দলবদলের তালিকায় ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসের নজরে থাকা এই তারকা ফুটবলারের এমন বার্তা আর্জেন্টাইন ফুটবল ভক্তদের মাঝে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, ফাইনালের পরপরই আর্জেন্টিনা দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিও পদত্যাগের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছিলেন, চুক্তি শেষে চলতি বছরের ডিসেম্বরের পর তার পক্ষে থাকা কঠিন হতে পারে। কোচের পর এবার দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ দিবু মার্টিনেজের এই অনিশ্চিত বার্তা আর্জেন্টাইন ফুটবলের এক সোনালী অধ্যায়ের সম্ভাব্য সমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।