প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১:০৪ পিএম আপডেট: ২৩.০৭.২০২৬ ১:০৬ পিএম (ভিজিট : ৭৯)

X
শেখ হাসিনার সাথে মো. সাহাবুদ্দিন
স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। চলতি মাসেই তিনি বঙ্গভবন ছাড়ছেন।
উন্নত চিকিৎসার জন্য যেতে চান সিঙ্গাপুর। এর আগে ওই দেশেই বাইপাস সার্জারিসহ হৃদরোগের চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি তার এ ব্যক্তিগত অভিপ্রায়ের কথা বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নিকটজনদের জানিয়েছেন। বঙ্গভবন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের অভিপ্রায় ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বঙ্গভবনের ওই সূত্রটি জানিয়েছে, তিনি খুবই অসুস্থ। এ অবস্থায় তার দায়িত্ব অব্যাহত রাখা অসম্ভব। চলতি মাসেই দুদফায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন তিনি। তার সিটি স্ক্যান ও এমআরআই রিপোর্ট ভালো আসেনি। হৃদরোগজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি তার নিউরোলোজিক্যাল সমস্যা ধরা পড়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের টিম রাষ্ট্রপতিকে অতি দ্রুত উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার কথাও বলেছেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এ মুহূর্তে তার চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে পরিবারও।
ওই কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে মেডিকেল চেকআপ করে এসেছেন। এখন আবার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা বলা শোভনীয় হবে না।
রাষ্ট্রেরও কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। প্রক্রিয়া শেষে চলতি মাসেই তিনি বঙ্গভবন ছাড়বেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
জুলাই বিপ্লবের পর থেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি ওঠে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্ব আর চরম আস্থার সংকটে পড়ে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের পথেই হাঁটতে হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির বিদায়ের সম্ভাবনা প্রবল। ইতোমধ্যে বঙ্গভবন থেকে এমন স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে ।
আগামী সাতদিনের মধ্যে এ বিষয়টি দৃশ্যমান হতে পারে বলে বঙ্গভবন ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির পদে শপথ নেন। এ হিসাবে তিনি এখন পর্যন্ত তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব করেন।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী [১২৩(৩) অনুচ্ছেদ] পদত্যাগ মৃত্যু বা অপসরণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে এ তারিখ থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।