
X
সংগৃহীত ছবি
আগামী অ্যাশেজ সিরিজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মে মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি টেস্ট আয়োজনের গুঞ্জন চলছিল। অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) ঘোষণায় লর্ডসে আবারও টেস্ট খেলার অপেক্ষার অবসান হলো বাংলাদেশের। সর্বশেষ ১৭ বছর আগে, ২০১০ সালে ঐতিহাসিক এই ভেন্যুতে টেস্ট খেলেছিল টাইগাররা।
আগামী বছর শুধু বাংলাদেশ পুরুষ দলই নয়, ইংল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ নারী দলও। বৃহস্পতিবার ২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক সূচি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসিবি।
ক্রিকেটের ‘মক্কা’খ্যাত লর্ডস। যেখানে খেলার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের প্রতিটি ক্রিকেটার। দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও সেই ঐতিহাসিক মাঠে টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। শুধু পুরুষ দলই নয়, একই বছরে ইংল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ নারী দলও। বৃহস্পতিবার ২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক সূচি প্রকাশ করে পুরো সফরের বিস্তারিত জানিয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের ভেন্যু লর্ডস থেকে সরে গেল ওভালে। তাতেই বাংলাদেশের জন্য খুলে গেল লর্ডসের দুয়ার। আগামী বছর ইংল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি হবে ক্রিকেট তীর্থ বলে পরিচিত ঐতিহাসিক এই মাঠে। পুরুষ দলের পর ইংল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশের নারী দলও।
আর এই টেস্ট দিয়ে ১৭ বছরের খরা কাটবে বাংলাদেশের। ২০১০ সালের পর ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলবে তারা। আগামী বছরের ইংলিশ গ্রীষ্মের সূচি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। অ্যাশেজের পাঁচ টেস্টের ভেন্যুসহ অন্যান্য ম্যাচের সূচিও চূড়ান্ত হয়েছে।
লর্ডসে বাংলাদেশের টেস্ট ম্যাচটি শুরু ২৮ মে। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ৯ জুন থেকে ওভালে। অ্যাশেজ শুরু ১৮ জুন।
গত মাসে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের খবর ছিল, অ্যাশেজের আগে প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলবে ইংল্যান্ড। ভেন্যু তখনও চূড়ান্ত হয়নি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী লর্ডসে হলে বাংলাদেশের টেস্ট হতো অন্য কোনো ভেন্যুতে। এখন ফাইনাল ওভালে চূড়ান্ত হওয়ায় বাংলাদেশ খেলবে লর্ডসে।
মূলত পিচের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই ফাইনালটি ওভালে সরিয়ে নেওয়া হলো। এবারের গ্রীষ্মে ইংল্যান্ড ও নিউ জিল্যান্ডের টেস্টে তুমুল সমালোচনার শিকার হয়েছিল লর্ডসের উইকেট। অতিরিক্ত সিম মুভমেন্ট ও অসম বাউন্স মিলিয়ে উইকেট ছিল মাত্রাতিরিক্ত বোলিং সহায়ক। ১৬৬ ওভারেই শেষ হয়ে যায় ম্যাচটি। ১৪০ বছরের মধ্যে লর্ডসে সংক্ষিপ্ততম টেস্ট সেটি, যেখানে দুই দল উভয় ইনিংসে অলআউট হয়েছে। ৪০টি আউটের মধ্যে ২৪টিই ছিল বোল্ড এবং এলবিডব্লিউ। আইসিসিও পরে লর্ডসের উইকেটকে ‘অসন্তোষজনক’ রায় দিয়ে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেয়।
আগামী বছর তাই চার মাসের মধ্যে ইংল্যান্ডের সঙ্গে তিনটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। আইসিসির বর্তমান ভবিষ্যৎ সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে এসে দুটি টেস্ট খেলার কথা ইংলিশদের। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ ম্যাচ দুটি হওয়ার কথা মিরপুর ও চট্টগ্রামে।
টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর প্রথম ১০ বছরেই দুই দফায় ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে খেলেছে দুটি টেস্ট, ২০১০ সালে দুটি। এরপর আর বাংলাদেশকে কখনোই ডাকেনি ইংল্যান্ড, আইসিসির ভবিষ্যৎ সফরসূচিতেও হয়নি জায়গা।
গত ১৬ বছরে ইংলিশরা বাংলাদেশে টেস্ট খেলতে এসেছে মোটে একবার। ২০১৬ সালে সেই সিরিজটি ১-১ ড্র হয়েছিল। বাংলাদেশ নারী দল এখনও ইংল্যান্ডে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার সুযোগ পায়নি। সেটির অবসানও হচ্ছে আগামী বছর। লর্ডসে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তারাও।
তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজ শুরু লর্ডসেই, ৮ সেপ্টেম্বর। ১০ ও ১২ সেপ্টেম্বর পরের দুই ম্যাচ টন্টন ও উস্টারে। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ ১৭ সেপ্টেম্বর হোভে। পরের দুই ম্যাচ ২১ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যান্টারবুরি ও চেমসফোর্ডে।
বাংলাদেশের দুটি দলকে নিজেদের আঙিনায় পেতে রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড,‘ লর্ডসে একটি একক টেস্টের জন্য বাংলাদেশ পুরুষ দলকে স্বাগত জানাতে আমরা উচ্ছ্বসিত, যা হবে ২০১০ সালের পর ঘরের মাঠে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। একই সাথে আমরা একটি সাদা বলের সিরিজে বাংলাদেশ নারী দলকেও আতিথ্য দেব।”
বাংলাদেশ পুরুষ দলের সূচি
২৮ মে-১ জুন: একমাত্র টেস্ট, লর্ডস, লন্ডন।
বাংলাদেশ নারী দলের সূচি
৮ সেপ্টেম্বর: প্রথম টি-টোয়েন্টি, নর্থ্যাম্পটন।
১০ সেপ্টেম্বর: দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি, টনটন।
১২ সেপ্টেম্বর: তৃতীয় টি-টোয়েন্টি, উরচেস্টার।
১৭ সেপ্টেম্বর: প্রথম ওয়ানডে, হোভ।
২১ সেপ্টেম্বর: দ্বিতীয় ওয়ানডে, ক্যান্টারবুরি।
২৪ সেপ্টেম্বর: তৃতীয় ওয়ানডে, চেল্মসফোর্ড।