
X
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
‘শারীরিক অসুস্থতা’কে কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অনুসন্ধানী সাংবাদিকও তার পদত্যাগের আভাস সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতি কীভাবে পদত্যাগ করবেন এবং কীভাবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সংবিধান ও আইনে ব্যাখ্যা রয়েছে। সংবিধান অনুসারে, একজন রাষ্ট্রপতি স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র দিতে পারেন।
পদত্যাগপত্র দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
কতদিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে, সে বিষয়ে সংবিধানে বলা হয়েছে, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে তা পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। নির্বাচনে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
২০২৩ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মো. সাহাবুদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি। সময়ের হিসাবে প্রায় তিন বছর তিন মাস ধরে এই পদে রয়েছেন তিনি। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রপতিরও অপসারণ চেয়েছিলেন। কিন্তু ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলেও এই পদে পরিবর্তন আসেনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গত ৯ মে লন্ডনে যান রাষ্ট্রপতি। চিকিৎসা শেষে ১৮ মে দেশে ফিরে আসেন তিনি। এর দুই মাসের মাথায় সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন উঠলো।
রাষ্ট্রপতির পদে স্পিকার
রাষ্ট্রপতি কোনো কারণে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে কিংবা রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার। ‘অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পিকার’ শীর্ষক সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
কে হবেন রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি-সংক্রান্ত সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।’
রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে সংবিধানের ৪৮ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি—(ক) পঁয়ত্রিশ বৎসরের কম বয়স্ক হন; অথবা (খ) সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন; অথবা (গ) কখনও এই সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হতে অপসারিত হয়ে থাকেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে এবং রাষ্ট্রপতির পদের এবং সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুত করবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মেয়াদ নিয়ে ১২৩ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে ওই পদ শূন্য হলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই হতে ষাট দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; (২) মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হওয়ার পর নব্বই দিনের মধ্যে, তা পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।