
X
বিদেশি বোতলজাত পানি
দেশের বাজারে বিদেশি বোতলজাত পানির একটি বিশেষ বাজার গড়ে উঠেছে। বিদেশি নাগরিক, বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মী এবং বিদেশফেরত বা প্রবাসী বাংলাদেশিদের চাহিদাকে কেন্দ্র করে বছরে প্রায় ২০ কোটি টাকার বিদেশি পানির ব্যবসা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), আমদানিকারক ও পরিবেশকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বোতলজাত পানির বাজারের আকার প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশি পানির বাজার প্রায় ২০ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রায় ৯-১০টি প্রতিষ্ঠান বিদেশি পানি আমদানি ও বাজারজাত করছে।
বাজারে ফ্রান্স, ইতালি, নরওয়ে ও ফিজির বিভিন্ন প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের পানি পাওয়া যাচ্ছে। এসব পানি মূলত রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকা, পাঁচতারকা হোটেল, সুপারশপ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হয়। সাধারণ মুদি দোকানে এ ধরনের পানি পাওয়া যায় না।
আমদানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি বোতলজাত পানির দাম দেশীয় পানির তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি। ব্র্যান্ড ও বোতলের আকারভেদে ৩৩০ মিলিলিটারের বোতল ২১৫ থেকে ২৮০ টাকা, এক লিটারের বোতল ৩২৫ থেকে ৫৫০ টাকা এবং দেড় লিটারের বোতল ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিদেশি পানি আমদানিকারকদের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এ বাজার কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। আগে যেখানে মাসে ৭০০ থেকে ১,২০০ কার্টন বিক্রি হতো, বর্তমানে তা কমে ৬০০ থেকে ৭০০ কার্টনে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষ থেকে বিদেশি পানি আমদানিতে যথাযথ শুল্ক পরিশোধ এবং বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএসটিআই জানিয়েছে, বিদেশি নামে বিক্রি হওয়া পানিগুলো প্রকৃতপক্ষে আমদানি করা কি না এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। অনুমোদন ছাড়া কেউ পানি আমদানি করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও প্রিমিয়াম খাদ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিদেশি বোতলজাত পানির একটি স্থায়ী ক্রেতাশ্রেণি তৈরি হয়েছে। যদিও সামগ্রিক বোতলজাত পানির বাজারের তুলনায় এ খাতের পরিধি এখনও সীমিত।