সিটি গ্রুপ প্রতিষ্ঠার ৫৬ বছর পর কেন এমন সংকটে?

অনলাইন ডেস্ক

অর্থ-বানিজ্য

ভোগ্যপণ্যের বাজারে সুপরিচিত ব্র্যান্ড ‘তীর’। দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের ব্র্যান্ড এটি। এর বাইরে ন্যাচারাল, জীবন, সান,

2026-07-25T11:28:52+00:00
2026-07-25T11:28:52+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
সিটি গ্রুপ প্রতিষ্ঠার ৫৬ বছর পর কেন এমন সংকটে?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৮ এএম   (ভিজিট : ৩৮)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

ভোগ্যপণ্যের বাজারে সুপরিচিত ব্র্যান্ড ‘তীর’। দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের ব্র্যান্ড এটি। এর বাইরে ন্যাচারাল, জীবন, সান, কুইক বাইটসহ বেশ কিছু ব্র্যান্ডের মালিকানায় আছে সিটি গ্রুপ। নতুন করে হোসেন্দি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগসহ দুটি গণমাধ্যমেও বিনিয়োগ রয়েছে গ্রুপটির। গত পাঁচ দশক ধরে ব্যবসাসফল শিল্পগোষ্ঠীটির ৪০টি প্রতিষ্ঠানে সরাসরি কর্মসংস্থান ২৫ হাজার মানুষের।

ভোগ্যপণ্যের বাজারের বড় অংশ দখলে সিটি গ্রুপের। চিনি সরবরাহের ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে বৃহৎ এই শিল্পগোষ্ঠীর। ভোজ্যতেলের ৩৫ শতাংশ, আর গমের চাহিদারও ২৫ শতাংশ পূরণ করছে সিটি গ্রুপ।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি খেলাপি হওয়ার শঙ্কার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নীতিসহায়তা চেয়েছে। চিঠিতে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা ঋণ খেলাপি না দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার ৫৬ বছরের ইতিহাসে কেন সিটি গ্রুপ এমন সংকটে পড়ল? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে সিটি গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। তবে গভর্নরের কাছে দেয়া এক চিঠিতে জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় কমেছে কোম্পানির আমদানি সক্ষমতা। প্রতিশ্রুত জ্বালানি না পাওয়ায় নতুন কারখানাগুলো উৎপাদনে যেতে পারেনি। যদিও বিশ্লেষকরা এই সংকটের জন্য ব্যাংকগুলোকেও দায়ী করছেন।

বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, ফরেন কমার্শিয়াল ব্যাংকের এক্সপোজার দেখে অন্যরাও সেখানে এক্সপোজার নিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। ফলে ভালো ভালো ব্যাংকও সেখানে এক্সপোজার নিয়েছে। প্রত্যেকটি শিল্পগ্রুপের ওপর কোন কোন ব্যাংকের এক্সপোজার রয়েছে, তা যতদূর সম্ভব কমিয়ে আনা উচিত। কারণ, একটি শিল্পগ্রুপ যদি ফেল করে, তাহলে তার প্রভাবে অনেকগুলো ব্যাংকও ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে।

এরই মধ্যে সিটি গ্রুপের ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ৩৬টি ব্যাংক। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিল্পগোষ্ঠীটির ঋণ খেলাপি না দেখানোর নির্দেশনাও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, যৌক্তিক কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়লে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এখন নতুন করে একই কারণে যদি কোনো বড় শিল্পগ্রুপ খেলাপি হয়, তাহলে সেটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যই একটি সতর্কবার্তা (এলার্মিং)। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যদি কোনো নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন হয় এবং তা আইনের মধ্যে থেকে দেয়া সম্ভব হয়, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করবে।

সংকট থেকে সিটি গ্রুপকে টেনে তোলা অসম্ভব হতে পারে উল্লেখ করে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান বলেন, ৩৬টি ব্যাংক যখন একটি সিন্ডিকেশনের মতো করে তাদের পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন আমার সন্দেহ আছে—শেষ পর্যন্ত তারা কতটুকু ঋণ আদায় করতে পারবে। আমার অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো নয়। ৩৬টি না হলেও, আমরা চার-পাঁচটি ব্যাংক মিলে কাউকে উদ্ধার (সালভেজ) করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি।

বড় বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।





Loading...
Loading...


অর্থ-বানিজ্য এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy