ব্রাজিলের হয়েও বিশ্বকাপ খেলতে পারতেন মেসি!

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলাধুলা

লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল একে অপরের পরিপূরক। নীল-সাদা জার্সি ছাড়া ৩৯ বছর বয়সি এই মহাতারকাকে অন্য কোনো

2026-07-25T19:04:03+00:00
2026-07-25T19:04:03+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
ব্রাজিলের হয়েও বিশ্বকাপ খেলতে পারতেন মেসি!
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৪ পিএম   (ভিজিট : ১৯)
লিওনেল মেসি
X

লিওনেল মেসি

লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল একে অপরের পরিপূরক। নীল-সাদা জার্সি ছাড়া ৩৯ বছর বয়সি এই মহাতারকাকে অন্য কোনো দেশের পোশাকে কল্পনা করাও ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অসম্ভব।

অথচ তিন বছর ধরে চলা এক ঐতিহাসিক গবেষণার সিদ্ধান্ত থেকে সম্প্রতি উঠে এসেছে এক অবিশ্বাস্য তথ্য; আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তি অধিনায়ক চাইলে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ব্রাজিলের হয়েও আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলতে পারতেন!
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ভিন্ন প্রধান আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ফাইনালে শুরুর একাদশে খেলার কীর্তি গড়েন মেসি। যদিও স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

নির্ধারিত সময়ে কোনো অন-টার্গেট শট না পেয়ে এবং ২৬টি ফাউল করে ম্যাচটি তাদের হতাশায় শেষ হলেও, টুর্নামেন্টজুড়ে ৮ ম্যাচে ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে নিজের চিরন্তন শ্রেষ্ঠত্ব আবারও প্রমাণ করেন মেসি। এই পারফরম্যান্সের পর আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের কাছে তিনি কেবল জাতীয় আইকন নন, ঈশ্বরের কাছাকাছি এক সত্তা।

তবে ইয়াহু স্পোর্টসের বরাতে গ্লোবোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মেসির মাতামহের বংশানুক্রমিক সূত্রের মাধ্যমে তিনি ব্রাজিলের হয়ে খেলার যোগ্য হতে পারতেন। ইতালীয় ইতিহাসবিদ ফিওরেঞ্জো সান্তিনির তিন বছরের টানা গবেষণায় উঠে এসেছে যে, রোসারিওতে জন্ম নেওয়া মেসির মাতামহের দিকের এক প্রপিতামহ বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যের অভ্যন্তরে রিবেইরাও প্রেতো শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

আনুমানিক ১৯০৫ সালে এই পরিবারটি স্থানান্তরিত হয়ে আর্জেন্টিনায় বসতি স্থাপন করে, যা আইনগত ও বংশানুক্রমিকভাবে মেসিকে ব্রাজিলিয়ান নাগরিকত্ব দাবির একটি সুযোগ করে দিয়েছিল।
গবেষক সান্তিনির গবেষণায় এই পরিবারের ইতিহাসের আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। রোসারিওতে স্থায়ীভাবে বসবাসের পর দাপ্তরিক নথিপত্রে মেসির মাতামহের মূল পারিবারিক পদবি ‘কোকেত্তিনি’ পরিবর্তিত হয়ে যায় ‘কুকিত্তিনি’-তে; যা বর্তমানে মেসির মায়ের পরিবারের অফিসিয়াল পদবি হিসেবে পরিচিত।

ঐতিহাসিক অনুসন্ধান বলছে, কেবল আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিল নয়, ইউরোপের দুই পরাশক্তি ইতালি ও স্পেনের হয়েও খেলার সুযোগ ছিল মেসির সামনে।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেসি আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনে পাড়ি জমান। দীর্ঘ সময় দেশটিতে বসবাসের কারণে তিনি ‘লা রোখা’ বা স্পেন জাতীয় দলের হয়ে খেলার আইনি যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। স্পেনের স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক এক স্প্যানিশ রেডিও সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন যে, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন মেসিকে স্পেনের হয়ে খেলানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিল। 

দেল বস্ক বলেছিলেন, ‘ফেডারেশন মেসিকে স্পেনের পক্ষে খেলানোর জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু লিওনেল তা প্রত্যাখ্যান করে, কারণ সে তার নিজের দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসে। সে আসলে আমাদের জন্য দারুণ কিছু হতে পারত। মেসি তো মেসিই; তার বিকল্প একটিই। তাকে কোচিং করানোটা যে কারো জন্য স্বপ্নের মতো হতো।’

অন্যদিকে, উনিশ শতকের শেষ এবং বিশ শতকের শুরুর দিকে ইতালি থেকে আর্জেন্টিনায় আসা অভিবাসনের বিশাল তরঙ্গের সূত্রে অনেক আর্জেন্টাইনের মতোই মেসির ধমনীতেও রয়েছে ইতালীয় রক্ত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবারের সঙ্গেই ইতালীয় বংশোদ্ভূত ঐতিহ্যের সংযোগ রয়েছে; যার সুবাদে ইতালির জাতীয় দলেও মেসির খেলার একটি পরোক্ষ পথ খোলা ছিল।






Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy