
X
সংগৃহীত ছবি
ফুটবলারের পায়ের মাপ অনুযায়ী তৈরি হয় বুট, ক্রিকেটারের ব্যাটও হয় তার খেলার ধরন অনুযায়ী। অনুশীলন, খাবার, ঘুম, ফিটনেস; পেশাদার ক্রীড়াবিদের জীবনের প্রায় প্রতিটি বিষয়ই থাকে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার মধ্যে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজার টুথপেস্টটিও কি তাদের জন্য বিশেষ ধরনের?
বাংলাদেশের বাজারে থাকা ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার তথ্য প্রকাশের পর এই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) এক বছরব্যাপী গবেষণায় ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
তবে এই গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত প্রভাব বা ক্রীড়াবিদদের ওপর এর আলাদা কোনো প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়নি।
তাহলে কি পেশাদার খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা কোনো টুথপেস্ট রয়েছে?
বিশেষজ্ঞদের উত্তর—না। ক্রীড়াবিদদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো একটি টুথপেস্ট বাধ্যতামূলক নয়। তবে তাদের দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বিবেচনায় অনেক সময় সাধারণ টুথপেস্টের চেয়ে বেশি ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেন দন্তচিকিৎসকেরা।
বিশ্ব দন্ত সংস্থার (এফডিআই) নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রীড়াবিদসহ সবারই দিনে অন্তত দুইবার দুই মিনিট করে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা উচিত। খাবার খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর দাঁত মাজা এবং ব্রাশের সুযোগ না থাকলে পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করার পরামর্শও দেওয়া হয়।
অর্থাৎ একজন খেলোয়াড় বিখ্যাত বলেই তার জন্য আলাদা ধরনের টুথপেস্ট প্রয়োজন—এমন নয়। বরং দাঁতের অবস্থা, ক্ষয়ের ঝুঁকি এবং চিকিৎসকের পরামর্শই নির্ধারণ করে কোন ধরনের পেস্ট তার জন্য উপযুক্ত।
তবে যেসব খেলোয়াড়ের দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ২৮০০ বা ৫০০০ পিপিএম ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা হতে পারে। ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণা কর্মসূচিতে দেখা যায়, সচেতনতা বাড়ানোর পর ২৮০০ পিপিএম ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহারকারী ক্রীড়াবিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। এটি কোনো তারকার বিশেষ পণ্য নয়, বরং দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধের চিকিৎসাগত ব্যবস্থার অংশ।
কেন ক্রীড়াবিদদের দাঁতের ঝুঁকি বেশি?
পেশাদার খেলোয়াড়দের জীবনযাত্রার কারণেই অনেক সময় দাঁতের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। দীর্ঘ সময়ের অনুশীলন ও প্রতিযোগিতার মধ্যে তারা নিয়মিত ক্রীড়া পানীয়, এনার্জি জেল ও বেশি শর্করাযুক্ত খাবার গ্রহণ করেন। এসব খাবার ও পানীয়ের চিনি এবং অম্ল দাঁতের এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ঘাম, শরীরে পানির ঘাটতি এবং দীর্ঘ সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কারণে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে। এতে লালার স্বাভাবিক সুরক্ষা কমে যায়। মানসিক চাপ ও দাঁত ঘষার অভ্যাসও অনেক খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। সাঁতারুদের ক্ষেত্রে কম পিএইচযুক্ত পানিতে দীর্ঘ সময় থাকার কারণেও দাঁতের ক্ষয় হতে পারে।
দাঁতের সমস্যা যে শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, তার উদাহরণ পাওয়া যায় ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে। ওই সময় ৩৯৯ জন ক্রীড়াবিদের দাঁত পরীক্ষা করে দেখা যায়, ৫৫ শতাংশের দাঁতে ক্ষয়, ৪৫ শতাংশের মাঝারি থেকে গুরুতর এনামেল ক্ষয় এবং ৭৬ শতাংশের মাড়িতে কোনো না কোনো সমস্যা ছিল। তাঁদের ১৮ শতাংশ জানিয়েছিলেন, মুখ ও দাঁতের সমস্যা অনুশীলন বা পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে।
একজন খেলোয়াড়ের জন্য দাঁতের তীব্র ব্যথা, সংক্রমণ বা আক্কেলদাঁতের সমস্যা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ কারণেই অনেক পেশাদার দল এখন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে খেলোয়াড়দের দাঁতের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করে। সংস্পর্শমূলক খেলায় দাঁত সুরক্ষায় মাউথগার্ড ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়।