আপনার ব্যবহৃত টুথব্রাশটি কী দিয়ে তৈরি? জানুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য..

চৌধুরী তানভীর আহম্মেদ

স্বাস্থ্য

আমরা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি, সেটি

2026-07-27T12:33:36+00:00
2026-07-27T12:51:45+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
আপনার ব্যবহৃত টুথব্রাশটি কী দিয়ে তৈরি? জানুন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য..
চৌধুরী তানভীর আহম্মেদ
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম  আপডেট: ২৭.০৭.২০২৬ ১২:৫১ পিএম  (ভিজিট : ৪৮)
প্রতীকী ছবি
X

প্রতীকী ছবি

আমরা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি, সেটি হলো টুথব্রাশ। দাঁত পরিষ্কার রাখা ও মুখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টুথব্রাশের ভূমিকা অপরিসীম।

কিন্তু প্রতিদিন ব্যবহার করা এই ছোট্ট পণ্যটি আসলে কী দিয়ে তৈরি, তা অনেকেই জানেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টুথব্রাশের উপাদান সম্পর্কে সচেতনতা শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নয়, পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত অধিকাংশ টুথব্রাশ মূলত বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক ও সিনথেটিক উপাদান দিয়ে তৈরি। টুথব্রাশের হাতল, ব্রিসল (লোম) এবং রাবারের অংশে ভিন্ন ভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হয়। এসব উপকরণের গুণগত মান, স্থায়িত্ব এবং পরিবেশের ওপর প্রভাবও একেক রকম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ একটি টুথব্রাশের হাতল সাধারণত পলিপ্রোপিলিন (Polypropylene বা PP) নামের এক ধরনের প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয়। এই প্লাস্টিক হালকা, মজবুত, পানি প্রতিরোধী এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে উৎপাদন করা যায়। এ কারণে বিশ্বের অধিকাংশ টুথব্রাশ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এই উপাদান ব্যবহার করে থাকে।

অন্যদিকে, টুথব্রাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্রিসল বা দাঁত পরিষ্কারের লোম তৈরি হয় সাধারণত নাইলন (Nylon) দিয়ে। নাইলন একটি কৃত্রিম তন্তু, যা নমনীয়, টেকসই এবং সহজে ভেঙে যায় না। এটি দাঁতের ময়লা ও প্লাক পরিষ্কার করতে কার্যকর হলেও অতিরিক্ত শক্ত ব্রিসল ব্যবহার করলে দাঁতের এনামেল এবং মাড়ির ক্ষতি হতে পারে। তাই দন্ত চিকিৎসকরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফট বা নরম ব্রিসলের টুথব্রাশ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

বর্তমানে বাজারে অনেক টুথব্রাশে হাতলের সঙ্গে রাবারের মতো নরম অংশ দেখা যায়। এই অংশ সাধারণত থার্মোপ্লাস্টিক ইলাস্টোমার (Thermoplastic Elastomer বা TPE) দিয়ে তৈরি হয়। এটি ব্যবহারকারীর হাত থেকে টুথব্রাশ পিছলে যাওয়া রোধ করে এবং ব্যবহারে আরাম বাড়ায়।

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর কয়েকশ কোটি প্লাস্টিক টুথব্রাশ ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া হয়। পরিবেশবিদদের মতে, এসব টুথব্রাশের অধিকাংশই সহজে পচে না। একটি প্লাস্টিক টুথব্রাশ সম্পূর্ণভাবে ক্ষয় হতে কয়েকশ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে এগুলো মাটিতে, নদীতে কিংবা সমুদ্রে জমে পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তৈরি হওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের বিষয়। টুথব্রাশসহ বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্য ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়, যা পানি, মাটি এমনকি খাদ্যচক্রেও প্রবেশ করতে পারে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাঁশের টুথব্রাশ। বাঁশ প্রাকৃতিকভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এটি জৈবভাবে পচনশীল। বাঁশের হাতল ব্যবহারের ফলে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো সম্ভব হয়। তবে অনেক বাঁশের টুথব্রাশের ব্রিসল এখনও নাইলন দিয়ে তৈরি হওয়ায় সেগুলো পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব নয়। ব্যবহার শেষে ব্রিসল আলাদা করে ফেললে হাতলটি সহজে মাটিতে পচে যেতে পারে।

এছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠান উদ্ভিদভিত্তিক বায়োপ্লাস্টিক বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান দিয়ে টুথব্রাশ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এসব পণ্যের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়লেও এখনও বিশ্ববাজারে প্রচলিত প্লাস্টিক টুথব্রাশের তুলনায় এর ব্যবহার তুলনামূলক কম।

দন্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ভালো উপাদানের টুথব্রাশ ব্যবহার করলেই হবে না, নির্দিষ্ট সময় পর তা পরিবর্তন করাও জরুরি। সাধারণত তিন মাস পর অথবা ব্রিসল বাঁকতে শুরু করলে নতুন টুথব্রাশ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অসুস্থ হওয়ার পরও নতুন টুথব্রাশ ব্যবহার করা স্বাস্থ্যসম্মত বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।

শিশুদের জন্য ব্যবহৃত টুথব্রাশেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাদের দাঁত ও মাড়ি তুলনামূলক সংবেদনশীল হওয়ায় ছোট মাথা ও নরম ব্রিসলযুক্ত টুথব্রাশ ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি শিশুদের টুথব্রাশ নিয়মিত পরিষ্কার ও শুকনো স্থানে সংরক্ষণ করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, অনেকেই টুথব্রাশের ঢাকনা লাগিয়ে দীর্ঘ সময় ভেজা অবস্থায় রেখে দেন, যা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ব্যবহারের পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে খোলা ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে টুথব্রাশ শুকিয়ে রাখা ভালো।

পরিবেশবিদদের মতে, একজন মানুষ যদি সারা জীবনে গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০টি টুথব্রাশ ব্যবহার করেন, তবে বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ সহজেই অনুমান করা যায়। তাই ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, টুথব্রাশ কেনার সময় শুধু দাম বা বাহ্যিক নকশা নয়, এর উপাদান, ব্রিসলের মান এবং পরিবেশগত প্রভাবও বিবেচনায় রাখা উচিত। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে টুথব্রাশ পরিবর্তন, সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুললে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও পরিবেশ দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রতিদিনের ছোট্ট একটি অভ্যাস-টুথব্রাশ ব্যবহার-শুধু দাঁত পরিষ্কারের বিষয় নয়; এটি আমাদের স্বাস্থ্য, সচেতনতা এবং পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।





Loading...
Loading...


স্বাস্থ্য এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy