
X
তিবো কোর্তোয়া
বিশ্বকাপ শেষেই নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যতের সম্ভাব্য একটি ছবি মেলে ধরেছেন তিবো কোর্তোয়া। তবে শুধু তার চাওয়াই তো শেষ নয়। কোচের ভাবনাও মিলতে হবে একবিন্দুতে। অভিজ্ঞ এই গোলকিপার এখন সেই অপেক্ষাতেই আছেন। নতুন কোচ মার্ক ফন বোমেলের সঙ্গে আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে বেলজিয়ামের হয়ে তার সামনের পথচলা।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হেরে ছিটকে যায় বেলজিয়াম। কোচ হুডি গাহসিয়ার দায়িত্বও শেষ হয় বিশ্ব আসর দিয়ে। নতুন কোচ নিয়োগ দিতে খুব একটা সময় নেয়নি বেলজিয়ামের ফেডারেশন। নেদারল্যান্ডসের সাবেক তারকা মার্ক ফন বোমেলকে বেছে নেয় তারা নতুন কোচ হিসেবে। বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ, এসি মিলানে খেলা সাবেক মিডফিল্ডারের সঙ্গে বেলজিয়ামের চুক্তি ২০২৮ ইউরো পর্যন্ত। ৪৯ বছর বয়সি কোচ সবশেষ কোচিং করিয়েছেন ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বেলজিয়ান ক্লাব অ্যান্টেয়ার্পকে।
ফন বোমেলের নিয়োগ খুব বড় বিস্ময় হয়ে আসেনি কোর্তোয়ার কাছে। একটি স্পন্সরশিপ ইভেন্টে তিনি বললেন, দলের কাছ থেকে বাড়তি সম্মান ও সমীহ পাবেন নতুন কোচ। এটা আসলে খু বড় চমক নয়, কারণ বেশ কিছুদিন ধরেই তার নাম আলোচনায় ছিল। আমার মনে হয়, তিনি অ্যান্টোয়ার্পে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি শীর্ষস্থানীয় একজন কোচ। অনেক ফুটবলারই তার সম্পর্কে খুব ইতিবাচক কথা বলেন। আমিও তাকে ভালোভাবে জানার জন্য মুখিয়ে আছি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফন বোমেল নিজে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেছেন এবং এই ধরনের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ের সেই অভিজ্ঞতা অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক এবং এটি স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলারদের কাছ থেকে অনেক সম্মান বয়ে আনে।”
নতুন কোচের সঙ্গে কোর্তোয়ার পথচলা কেমন হবে, সেটিই এখন কৌতূহলের ব্যাপার। ৩৪ বছর বয়সী গোলকিপার বিশ্বকাপ শেষে বলেছেন, জাতীয় দল থেকে তিনি এখনই অবসর নিতে চান না। তবে আপাতত বিরতি চান। সামনের উয়েফা নেশন্সর লিগে তিনি খেলতে চান না।
তার সেই ভাবনা নিয়েই এখন কোচের সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় তিনি,‘ বিশ্বকাপের পর আমি অবশ্যই খেলা চালিয়ে যেতে চাই, কিন্তু এটি তার সাথে আমার আলোচনার উপর নির্ভর করবে। নেশন্স লিগের সময় কিছুটা বিশ্রাম নিতে চাই এবং এ ব্যাপারে আমাদের একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেব, খেলা চালিয়ে যেতে চাই কি না।”
বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে চোট পেয়ে তার উঠে যাওয়ার সেই বহু চর্চিত ঘটনা নিয়েও আবার বললেন কোর্তোয়া। সেদিন অসাধারণ পারফর্ম করতে থাকা গোলকিপার ৭১তম মিনিটে উঠে যায় অস্বস্তি নিয়ে। তার বদলি নামা সানা লমেন্সের ভুলের কারণে গোল খেয়ে ম্যাচ হেরে বসে বেলজিয়াম।
ম্যাচের পর কোর্তোয়া বলেছিলেন, তার ব্যথা থাকলেও খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোচের চাওয়ায় তাকে উঠে যেতে হয়েছে। এ দিনের ইভেন্টের সেই কথারই পুনরাবৃত্তি করলেন তিনি,‘ আমার শুধু মনে হচ্ছিল যে, গোল কিক আর নিতে পারব না। আমার বদলে কোনো একজন ডিফেন্ডার গোল কিক নিতে পারত। আড়াআড়ি পাস দিতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু কোচ বললেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে, শুধুমাত্র শতভাগ ফিট ফুটবলাররাই খেলবে।’ এই তো। ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই।’
তবে ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশা থাকলেও কোচের প্রতি কোনো যে ক্ষোভ নেই তার, সেটিও স্পষ্ট করে বলেছিলেন কোর্তোয়া। আবারও তা মনে করিয়ে দিলেন তিনি,‘ অবশ্যই আমি হতাশ হয়েছিলাম, কারণ খেলাটা ছিল স্পেনের বিপক্ষে এবং আমরা ভালো ছন্দে ছিলাম। কিন্তু আমার চেয়ে দল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়ে গিয়েছিল এবং আমাদের মধ্যে কখনোই কোনো তিক্ততা ছিল না। আমি কখনোই তার (কোচ) সম্পর্কে খারাপ কিছু বলতে চাইনি।”