
X
কিলিয়ান এমবাপ্পে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ লড়াই থেকে ফ্রান্স বিদায় নেওয়ার পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন দলটির অধিনায়ক ও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছুটি কাটিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের নতুন পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহোর অধীনে অনুশীলনে যোগ দেওয়ার আগে সমর্থকদের উদ্দেশে এক দীর্ঘ ও আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন ২৭ বছর বয়সি এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বার্তায় দেশের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এমবাপ্পে লেখেন, ‘সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আবেগে ভরা একটি মাস আমরা পার করেছি, যেখানে নিজেদের শেষ সীমা পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। মাঠে এবং গ্যালারিতে ফ্রান্সের জার্সি গায়ে দেওয়ার যে গর্ব ও আবেগ, তা আমরা প্রতি মুহূর্তে অনুভব করেছি।’
বিশ্বকাপের শিরোপা না জেতার যন্ত্রণা লুকিয়ে না রেখে তিনি আরও যোগ করেন, ‘দলগতভাবে শিরোপা জিততে না পারাটা ভীষণ বেদনাদায়ক এবং এই কষ্ট আরও কিছুদিন থাকবে, আমি আপনাদের কাছে মিথ্যা বলব না।
হয়তো আপনাদের আরও ভালো একটি সমাপ্তি উপহার দেওয়া উচিত ছিল আমাদের। তবে গল্পের শেষটা কীভাবে হবে তা তো সবসময় আমাদের হাতে থাকে না; তবে আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে পেরেছি কি না, সেটাই আসল।
আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার (গোল্ডেন বুট) জিতলেও এর পুরো কৃতিত্ব সতীর্থদের দিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘এই ব্যক্তিগত পুরস্কারটি যতটা আমার, ততটাই পুরো দলের। প্রথম ম্যাচ থেকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত সতীর্থদের কঠোর পরিশ্রম, কৌশল এবং নিখুঁত পাস ছাড়া এতগুলো গোল করা আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব হতো না।’
নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করাকে জীবনের বড় অর্জন হিসেবে আখ্যা দিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বিশ্বকাপে অন্তত একটি ম্যাচ খেলার স্বপ্ন দেখতাম। আমি তিনটি আসরে খেলেছি, একটি জিতেছি এবং এবার অধিনায়ক হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করার সম্মান পেয়েছি। এটি আমি কোনোদিন ভুলব না।’
সময় অঞ্চলের বিশাল পার্থক্যের পরও মধ্যরাত জেগে খেলা দেখা এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে গিয়ে গ্যালারিতে জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে ধরা সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। এ ছাড়া কোচ দিদিয়ে দেশম, সহকারী স্টাফ, ফিজিও, শেফ এবং দলের চালকদের মতো পর্দার আড়ালের মানুষদের অবদানকে বিশেষভাবে স্মরণ করেন।
বার্তার শেষভাগে ফুটবল খেলার মূল সৌন্দর্য তুলে ধরে এমবাপ্পে লেখেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু আমাদের গল্প এখানেই শেষ নয়। সামনে আরও ম্যাচ আসবে, কোনো এক গ্রীষ্ম বা শীতের সন্ধ্যায় আমরা আবার এই ফুটবলের টানেই একসঙ্গে হব। ধন্যবাদ সবাইকে।’