প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৪ পিএম (ভিজিট : ৫৭)

X
নবম জাতীয় পে-স্কেল
চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট আগামী অক্টোবরের আগেই প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সচিব কমিটির সুপারিশ সমন্বয় করে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। আইএমএফ বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিলেও সরকার সেই সুপারিশ পুরোপুরি অনুসরণ করতে আগ্রহী নয়।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার আগেই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। তবে আর্থিক বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে, যাতে এককালীন ব্যয়ের চাপ কমানো যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ বড় অঙ্কের বরাদ্দ থাকলেও অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান এবং রাজস্ব ঘাটতি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গত রোববার প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী সচিব কমিটির বৈঠকে পে-স্কেলের সুপারিশ, সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়ন কৌশল এবং আইএমএফের পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র বলছে, অর্থ বিভাগ বিকল্প কয়েকটি বাস্তবায়ন মডেল নিয়েও কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি, নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং কয়েক ধাপে আর্থিক প্রভাব সমন্বয়ের পরিকল্পনা।
তবে এখনও নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত বেতন কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোন গ্রেডে কত বেতন নির্ধারণ হবে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ হয়নি। গেজেট জারি না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য বেতন কাঠামোকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।