
X
জিনেদিন জিদান
সবকিছু বলা যায় একরকম নিশ্চিতই ছিল। সেই সম্ভাবনাকে সত্যি করে, কোচিং ক্যারিয়ারে অবিশ্বাস্য সব সাফল্যের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নিলেন জিনেদিন জিদান। ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দেশের কিংবদন্তি ফুটবলার ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ জিদানকে কোচের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি জানায়।
জিদানের সঙ্গে চার বছরের চুক্তি করেছে সংস্থাটি। আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত এমবাপে-দেম্বেলের কোচ থাকবেন তিনি। ফ্রান্সের ডাগআউটে বিশ্বকাপজয়ী কোচ দিদিয়ে দেশোঁর স্থালাভিষিক্ত হলেন জিদান। দেশোঁর নেতৃত্বেই ১৯৯৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ফরাসিরা, আর সেই সাফল্যের মূল নায়ক ছিলেন জিদান।
খেলোয়াড়ী জীবন শেষে দুইজনই কোচিংয়ে পা রাখেন এবং এখানেও তারা দারুণ সব সাফল্য পেয়েছেন। ২০১২ সালে ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন দেশোঁ এবং তার কোচিংয়ে অপ্রতিরোধ্য দল হয়ে ওঠে তারা, ২০১৮ সালে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় দলটি।
চার বছর পর, কাতার বিশ্বকাপেও ফাইনালে ওঠে ফ্রান্স; তবে শিরোপা লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে যায় তারা। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপেও টপ ফেভারিট ছিল ফরাসিরা, কিন্তু সেমি-ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হেরে যায় দলটি।
বিশ্বকাপে যাওয়ার বেশ আগেই দেশোঁ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, ফ্রান্সের ডাগআউটে এটাই হবে তার শেষ টুর্নামেন্ট। তাই, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে যাওয়া তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি হয়ে থাকে এমবাপেদের কোচ হিসেবে তার শেষ ম্যাচ।
বিশ্বকাপ শেষের ১০ দিনের মধ্যে কোচের শূন্যস্থান পূরণ করে ফেলল এফএফএফ। কোচ হিসেবে জিদানের অভিজ্ঞতা হয়তো দেশোঁর মতো অত বেশি নয়; তবে এই কাজে তার যে বিশেষ ক্যারিশমা আছে, এর প্রমাণ আগেও মিলেছে। সেই সঙ্গে দৃঢ় কর্তৃত্ব, জনবল পরিচালনার দক্ষতা এবং শীর্ষমানের খেলোয়াড়দের স্বাধীনভাবে খেলতে দিয়ে ফল বের করে আনার বিশেষ ক্ষমতাও আছে জিদানের।
কখনও কোনো মূল দলের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা ছাড়াই, ২০১৬ সালে রেয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নিয়ে, তার ওইসব গুণাবলীর জোরেই দুর্দান্ত সফল হয়েছিলেন জিদান। তার হাত ধরেই টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েছিল রেয়াল। পরে আরেক দফায় মাদ্রিদের ক্লাবটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি এবং সেবারও পেয়েছিলেন শিরোপার স্বাদ।
দুই দফায় ক্লাবটির হয়ে দুটি লা লিগা ও তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ মোট ১১টি ট্রফি জয় করেন জিদান। ২০১৭ সালে ফিফা বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারও পান তিনি। ২০২১ সালে রেয়াল মাদ্রিদে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করার পর, আর কোনো দলের দায়িত্ব নেননি জিদান। মাঝে জাতীয় দলের কোচ হওয়ার ইচ্ছার কথা বলেছিলেন তিনি। সেই স্বপ্ন এবার তার পূরণ হলো।
এবার মাঠের চ্যালেঞ্জ নেওয়ার পালা। রেয়ালের ডাগআউটে যে ক্যারিশমা জিদান দেখিয়েছেন; তার জোরে এমবাপে, দেম্বেলে, ওলিসেরা হয়ে উঠতে পারেন আরও ভয়ঙ্কর, আর তাতে ফ্রান্স দলটি হয়ে উঠতে পারে আরও শক্ত, বিজয়ী।